191842

মেয়েদের কীভাবে বশ করেন তান্ত্রিকরা? ফাঁস হলো এর আসল সত্যিটা…

বশীকরণ প্রক্রিয়ারই একটি বিশেষ ধরণ হল মোহিনী বশীকরণ। এই পদ্ধতিতে নাকি কোনও যুবতী মেয়েকে বশ করা যায়। মোহিনী বশীকরণের পূজায় যে মেয়েকে বশ করা হবে, তার ঋতুকালীন কাপড় ব্যবহার করা হয়। এইভাবেই কি বশ করা হয় মেয়েদের?

বশীকরণ কথাটার সহজ অর্থ, কাউকে নিজের আয়ত্বে এনে তাকে দিয়ে নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করানো। তন্ত্রশাস্ত্রে বশীকরণের সর্বাধিক ব্যবহার প্রচলিত নিজের ভালবাসার মানুষকে কাছে পাওয়ার কাজে। এ ছাড়াও নানা কার্যসিদ্ধির উদ্দেশ্যে বশীকরণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কীভাবে কাজ করে এই বশীকরণ?

বশীকরণের পূজার সময় সাধারণত চার ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়— সুপারি, লবঙ্গ, পুষ্প এবং বস্ত্র। বশীকরণকে সফল করতে হলে যাকে বশ করা হবে তার শরীরের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে রয়েছে, এমন কোনও বস্তু নিয়ে আসতে হয়— যেমন তার পরনের পোশাকের টুকরো বা মাথার চুল। এরপর সেই বস্তুকে কাজে লাগিয়ে তান্ত্রিক গুহ্য পূজার্চনা ও বশীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিছু বিশেষ গাছ-গাছড়া এই পূজায় ব্যবহার করা হয়, যেগুলি যাকে বশ করা হবে তার মন মস্তিস্ক বা আত্মার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়, তান্ত্রিক যত দক্ষ হবেন বশীকরণের ফলও তত দ্রুত ফলবে। এমনকী, সেরকম উঁচু দরের তান্ত্রিকরা নাকি মুহূর্তের মধ্যে মানুষকে বশ করে ফেলতে পারেন।

এই বশীকরণ প্রক্রিয়ারই একটি বিশেষ ধরণ হল মোহিনী বশীকরণ। এই পদ্ধতিতে নাকি কোনও যুবতী মেয়েকে বশ করা যায়। মোহিনী বশীকরণের পূজায় যে মেয়েকে বশ করা হবে তার ঋতুকালীন কাপড় ব্যবহার করা হয়। পূজা চলাকালীন বেশ কিছু বিচিত্র মন্ত্র ১০৮ বার উচ্চারণের মাধ্যমে মেয়েদের বশ করা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে কোনও কোনও তন্ত্র গ্রন্থে। তবে তান্ত্রিকদের মধ্যে অনেকেই মোহিনী বশীকরণকে অর্বাচীন ও অপতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলে মনে করেন।

বলাই বাহুল্য, এহেন বশীকরণ প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করা খুবই কঠিন। বিজ্ঞান কখনই মনে করে না যে, কেবল কিছু পূজার্চনার মাধ্যমে কোনও মানু‌ষকে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করানো যেতে পারে। যাঁরা বশীকরণে বিশ্বাস স্থাপন করে অভীষ্ট ফললাভের আশায় সংবাদপত্রের স্বঘোষিত ‘তন্ত্রসম্রাট’দের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তাঁরাও বিশেষ উপকৃত হয়েছেন বলে শোনা যায় না। কাজেই আপনি বশীকরণে বিশ্বাস করবেন কি না তা সম্পূর্ণ আপনার বিবেচনাবোধের উপরেই নির্ভর করছে।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *