দুই হাত তুলে শ্রমিকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন
টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গায় ট্রাক চালককে পুলিশের পিটুনির প্রতিবাদে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শ্রমিকরা।
পুলিশ বাধা দিলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। বুধবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ধাওয়া খেয়ে এলেঙ্গা চৌরঙ্গী হোটেলে আশ্রয় নেয়। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পুলিশের শাস্তির আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা।
জানা গেছে, কালিহাতী থানার এএসআই মেহেদী হাসান ট্রাকচালক আলী আকবরকে বেধড়ক মারপিট করে। পুলিশের পিটুনিতে আলী আকবর গুরুতর আহত হলে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মহাসড়ক অবরোধ করে মিছিল করে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। দুর্ভোগে পড়ে শতশত যানবাহনের হাজার হাজার যাত্রী।
পরে কালিহাতীর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মুনছুর আল আরিফ ও সেকেন্ড অফিসার এসআই মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে এলে শ্রমিকদের আক্রমণের শিকার হন। এ সময় এসআই মেহেদী হাসান দু’হাত তুলে শ্রমিকদের কাছে ক্ষমা চান।
খবর পেয়ে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বণিক সমিতির সভাপতি মোতালেব সিকদার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরে-এ-আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কালিহাতী থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মুনছুর আল আরিফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এএসআই মেহেদী হাসান ট্রাকচালক আলী আকবরকে মারপিট করায় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। অভিযুক্ত এএসআই মেহেদী হাসানকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়।
এ প্রসঙ্গে এলেঙ্গা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ প্রতিনিয়ত শ্রমিকদের ওপর মারপিট-অত্যাচার করে। আমরা কিছু বলতে পারি না। এ ঘটনায় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তা-অবরোধ ও মিছিল করেছে। পুলিশ এসে স্থানীয় শ্রমিকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ও দোষী পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আশ্বাস দিয়েছেন।
সূত্র: জাগো নিউজ




