192281

পবিত্র কুরআন অজু ছাড়া স্পর্শ করা যাবে কী?

বিনা অযুতে পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা যাবে? স্বাভাবিকভাবে উত্তর হলো না। কারণ সুস্থ বিবেক এটাই বলে। কেউ কেউ তো চরম দুঃসাহস প্রদর্শন করে বলেছেন, ‘বিনা অযুতে কুরআন স্পর্শ করা সম্পূর্ণ জায়েজ’। তাদের দাবি, এটা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে কোনো আয়াত ও সহীহ হাদীস নেই। তাদের যুক্তিখ-ন করে কিছু লেখা হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা বলেন, সূরা বাকারা, অধ্যায় ২,আয়াত ২২২।

‘যারা বার বার তওবা করে এবং পাক পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকে,আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন।’ সূরা তাওবা,অধ্যায় ৯,আয়াত ১০৮। ‘যারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে,আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন।’ সূরা মুদ্দাস্সির,অধ্যায় ৭৪,আয়াত ৪। ‘নিজেকে পাক পবিত্র ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখুন।’ সূরা ওয়াকি’আ,অধ্যায় ৫৬,আয়াত ৭৯। ‘পবিত্র সত্তাগণ ছাড়া আর কেউ তা স্পর্শ করতে পারেনা।’’

অনেকে শেষ আয়াতের ব্যাপারে বলেন, এটা ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে নাযিল করা হয়েছে। আমরাও একমত। কিন্তু উসূল কি বলে। যদি আপনি শুধু নাযিলের প্রেক্ষাপট চিন্তা করেন, তাহলে পবিত্র কুরআনকে জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারবেন না। এটার উভয় অর্থ হয়। নাপাক ব্যক্তিরাও স্পর্শ করতে পারবে না।

ইমাম মালেক রহ. মুয়াত্তে গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে আবী বকর মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম বর্ণিত এ হাদীস উদ্ধৃত করেছেন যে, রসূলুল্লাহ সা. ইয়ামানের নেতৃবৃন্দের কাছে ইবনে হাযমের মাধ্যমে যে লিখিত নির্দেশ নামা পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে এ নির্দেশটিও ছিলো, ‘লা ইয়ুমাচ্চুল ক্বুরআনু ইল্লা আ’লা তুহরিন-পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ করবেনা।’ আবু দাউদ তার ‘মারাসীল ‘গ্রন্থে ইমাম যুহরী থেকে এ কথাটি উদ্ধৃত করেছেন।

ইবনে আবদিল বার রহ. এই পত্রখানা সম্পর্কে লেখেন, ‘আলেমগণ আমর ইবনে হাযমের এই পত্র সাদরে বরণ করেছেন এবং এ অনুযায়ী আমল করেছেন। এটি তাদের কাছে মুত্তাসিল সনদের চেয়ে বেশী প্রসিদ্ধ ও প্রকাশিত। ইসলামী জনপদসমূহের ফতোয়ার স্তম্ভ যেসব ফকীহ ও তাদের শিষ্যগণ তারা একমত যে, পবিত্র ব্যাক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবেনা।’ (আলইসতিযকার ৮/১০) আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী এ হাদীস গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ আছে, ‘অপবিত্র অবস্থা ছাড়া অন্য কিছু রসূলুল্লাহ সা.কে ক্বুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখতে পারতোনা’
‘ঋতুবতী নারী ও নাপাক কোন ব্যক্তি যেন ক্বুরআনের কোন অংশ না পড়ে।’

এখান থেকে কয়েকটা বিষয়ে আমরা মতামত প্রকাশ করছি।
১। কোনো মুসলমান অযু ব্যতীত পবিত্র কুরআন স্পর্শ করতে পারবেনা, তবে পড়া যাবে মুখস্থ।

২। যে শিক্ষক ও ছাত্র কুরআনের পঠন পাঠনে ব্যস্ত তারা প্রথমে অযু করে বসবে। যদি বার বার অযু ভেঙে যায় তাহলে একবার অযুতে পড়া চালিয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘসময়ে ভাঙে তাহলে অযু করবে।

৩। ধর্ম প্রচারে যদি কাউকে অর্থাৎ কোনো বিধর্মীকে দিতে হয় তা জায়েজ। (আমার মতে) পূর্বসুরিদের জুমহুর উম্মতের ইজমা অযু ছাড়া পবিত্র কুরআন স্পর্শ করা যাবে না।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *