পুলিশ কনস্টেবলের হাতে খুন হন সেই তরুণী
নিউজ ডেস্ক।। রাজশাহীর খালে ফেলে রাখা চালের ড্রাম থেকে উদ্ধার করা তরুণীর লাশের পরিচয় মিলেছে। তার নাম ননিকা রানী রায় (২৩)। তিনি ঠাঁকুরগাঁও জেলার মিলনপুর গ্রামের নিপেন চন্দ্র বর্মণের কন্যা এবং রাজশাহী নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তাকে হত্যা করা ঘাতক পুলিশ কনস্টেবলের নাম নিমাই চন্দ্র সরকার (৪৩)। দীর্ঘ সাত বছর প্রেমের পর বিয়ের জন্য চাপ দিতেই তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন নিমাই। পরে চালের ড্রামে ভরে একটি মাইক্রোবাসে করে ফেলে দেয় সিটিহাট সংলগ্ন খালে।
ঘাতক পুলিশ কনস্টেবল নিমাই পাবনার আতাইকুলা থানার চরাডাঙ্গা গ্রামের হেমান্ত সরকারের ছেলে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানায়, গত ১৬ এপ্রিল চালের ড্রাম থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তদন্ত চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে। তারা ঘাতক পুলিশ কনস্টেবল নিমাইসহ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার অপর তিনজন হলেন- হত্যাকাণ্ডে নিমাইয়ের সহযোগী কাশিয়াডাঙ্গা থানার আদারীপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে কবির আহম্মেদ (৩০), রাজপাড়া থানার নুরুল ইসলামের ছেলে সুমন আলী (৩৪) ও লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের (ঢাকা মেট্রো-গ-১৩-১৮২৮) চালক নগরীর রাজপাড়া থানার সতীশ রায়ের ছেলে নবমুসলিম আব্দুর রহমান ওরফে সঞ্জয় (২৫)। পুলিশ মাইক্রোবাসটিও জব্দ করেছে। গ্রেপ্তার চার আসামি এই হত্যাকাণ্ড ও লাশগুমের ঘটনায় নিজের ভূমিকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ জানান, গত ১৬ এপ্রিল সকালে সিটি হাট সংলগ্ন খালে একটি চালের ড্রামের ভেতর থেকে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ পাওয়া যায়। শাহমখদুম থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে এঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তিনি জানান, পিবিআইয়ের একটি চৌকশ পুলিশ টিম মামলাটি তদন্ত করে। লাশের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে ঘাতক নিমাইকে তার বোনের বাড়ি লালপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে অপর তিন আসামিকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। আসামিরা সবাই হত্যা ও লাশগুমের সঙ্গে নিজেদের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ কনস্টেবল নিমাই পিবিআইকে জানান, তিনি বর্তমানে রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত। ননিকা রানী রায়ের সঙ্গে তার দীর্ঘ ৭ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। সম্প্রতি নিমাই চন্দ্র সরকারকে বিয়ের জন্য চাপ দেন ননিকা। কিন্তু ঘরে প্রথম স্ত্রী থাকায় তাকে বিয়ে করতে পারছিলেন না নিমাই। পরে তাকে তার তেরখাদিয়া এলাকার ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করেন।
নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, নিমাই আগে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে ছিলেন। একটি মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ট ছবি তুলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ায় তাকে বরখাস্ত হতে হয়েছিলো। প্রায় এক বছর বরখাস্ত থাকার পর তিনি রেলপুলিশে যান।
তিনি জানান, মামলাটি পিবিআই এবং পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করে হত্যারহস্য উন্মোচন করা হয়েছে।




