377651

ইতালিতে প্রতারণার অভিযোগে জেমসদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

ইতালির রোমে বাংলাদেশের কিংবদন্তি রকস্টার মাহফুজ আনাম জেমস ও তার দল ‘নগরবাউল’ জেমসের বিরুদ্ধে থানায় প্রতারণার একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) স্থানীয় সময় সকাল ১১:২০ মিনিটে ‘লেজিওনে কারাবিনিয়েরি লাজিও’ পুলিশ স্টেশনে রোমের কনসার্ট আয়োজক আবুল মোয়াজ এই অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ১৭ পৃষ্ঠার বিস্তারিত নথিপত্র পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।

নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রোম এবং ভেনিসের কনসার্টের জন্য জেমস ও তার দলকে নগদ ৩৫,০০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৬ লাখ টাকা) দেওয়া হয়েছিল। মোয়াজের দাবি, এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল ইতালির রোম এবং ভেনিসে নির্ধারিত সংগীত অনুষ্ঠানের জন্য। কিন্তু জেমস শুধু রোমের কনসার্ট করেছেন। তার হয়ে ভেনিসের কনসার্ট করেননি। অন্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে করেছেন।

এই অভিযোগ আদালতে মামলা দায়ের বা আদালত অভিযোগ গ্রহণের প্রমাণ নয়। এটি ইতালির পুলিশের কাছে করা একটি ফৌজদারি অভিযোগের নথি। অভিযোগের পর ইতালীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে জেমসের ম্যানেজার রুবাইয়াৎ ঠাকুর বা ‘নগরবাউল’–এর বক্তব্য এই নথিতে নেই।

প্রতারণার এই লিখিত অভিযোগের আগে থেকেই জেমস ও তার দলের বিরুদ্ধে ইতালির একটি হোটেলের কক্ষ নোংরা করার অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক চলছিল। ‘হোটেল অ্যান্ড রেসিডেন্স আই ট্রায়াঙ্গোলি’ কর্তৃপক্ষ গত ১৯ আগস্ট আয়োজক মোয়াজকে এক ইমেইলের মাধ্যমে জানায় যে, জেমসসহ তার দলের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ করা চারটি অ্যাপার্টমেন্টই অত্যন্ত ভয়াবহ এবং শোচনীয় অবস্থায় (terrible state) পাওয়া গেছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ৫৪৯ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টটির অবস্থা ছিল সবচাইতে বেশি নাজুক, যা পরিষ্কার করতে সাধারণের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এই কারণে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ম অনুযায়ী ২০০ ইউরো জরিমানা ধার্য করে এবং অভিযোগ করে যে, অতিথিরা রিসেপশনে কোনো যোগাযোগ বা চেক-আউট প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই হোটেল ত্যাগ করেছেন।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেমসের ম্যানেজার রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন কালবেলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তারা চারটি আলাদা রুমে ছিলেন। জেমস ৩৪৫ নম্বর রুমে এবং তিনি নিজে ২৪৬ নম্বর রুমে অবস্থান করছিলেন। তিনি দাবি করেন, ৫৪৯ নম্বর রুমে একজন মিউজিশিয়ান ছিলেন এবং সেখানে সামান্য অপরিচ্ছন্নতার কথা বলা হচ্ছে।

চেক-আউট না করে চলে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে রবিন বলেন, ‘ইতালিতে পাসপোর্ট জমা থাকা অবস্থায় নিয়ম না মেনে চলে আসা অসম্ভব। আমরা স্বাভাবিকভাবেই চাবি দিয়ে চলে এসেছি।’

তবে হোটেল কক্ষের এই বিতর্ক ছাপিয়ে এখন ৩৫ হাজার ইউরোর প্রতারণার মামলাটিই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

 

ad

পাঠকের মতামত