342486

ধ’র্ষ’কদের বাড়ির পাশেই বড় হচ্ছে ধ’র্ষি’তার সন্তান, মিলছে না স্বীকৃতি

অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া দুই বন্ধু মিলে পা’লাক্র’মে ‘ধ’র্ষ’ণ করে নিজেদের বাড়ির পাশের দিনমজুরের কিশোরী কন্যাকে (১৪)। ঘটনাটি নিয়ে সালিস-দরবার, দ’ফায় দ’ফায় মী’মাংসার চেষ্টা হলেও কিশোরী সন্তান সম্ভাবা হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় সর্বশেষ সালিসে সন্তান নষ্ট করে কিশোরীকে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তে ঘটনাটি জানাজানির পর পুলিশ কিশোরিকে উ’দ্ধার করে মা’মলা নেয়। এর মধ্যে ধ’র্ষি’তা কিশোরী সন্তান জন্ম দিলেও ধ’রাছোঁ’য়ার বাইরে থাকে অ’ভিযুক্তরা।

দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে মা’মলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) আ’দালতে দাখিলের পর অ’ভিযুক্ত দুই তরুণ জামিনে আসলে মা’মলা তুলে নেওয়ার হু’মকি দেয় ধ’র্ষি’তার পরিবারকে। এ দিকে ধ’র্ষি’তার ঘরে জন্ম নেওয়া ছেলে সন্তান ধ’র্ষ’কদের সামনেই বড় হচ্ছে নানা অ’পবাদে। প্রতিনিয়তই ‘নষ্টা মেয়ে’ ডাক শুনতে হচ্ছে ধ’র্ষি’তাকে। ঘট’নাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া গ্রামের।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই গ্রামের মো. চাঁন মিয়ার ছেলে মোবারক হোসেন (১৬) ও মো. আকরাম হোসেনের ছেলে রাকিব মিয়া (১৬) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেলিতে পড়ে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে দুজনে মিলে নিজেদের বাড়ির পাশের এক দিনমজুরের মেয়েকে জ’ঙ্গলে নিয়ে পা’লাক্র’মে ধ’র্ষ’ণ করে। পরে এ ঘ’টনা কাউকে না বলার জন্য মে’রে ফে’লার হু’ম’কি দেয় ধ’র্ষ’করা। এর মধ্যে বেশ কয়েক দিন দুজনে মিলে ধ’র্ষ’ণ করে মেয়েটিকে।

একপর্যায়ে মেয়েটির শ’রীর খারাপের দিকে যেতে থাকলে পরিবারের লোকজন ঘ’টনাটি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার দাবি করে। মাতব্বরা ঘট’নাটি নিয়ে সালিসে বসলেও চাহিদামতো অর্থ না দেওয়ায় সিদ্ধান্তে কালক্ষেপণ হয়। আর এর মধ্যেই মেয়েটি শ’রীরে পরিবর্তন আসতে থাকে। মেয়েটির অ’ন্তঃস’ত্ত্বার বয়স আট মাস হলে তার শা’রীরিক অবস্থা খারাপের দিকে চলে যায়।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের জে’রে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল দুই ধ’র্ষ’ক ছাড়াও আট মাতব্বরকে অ’ভিযুক্ত করে মা’মলা নেয় পুলিশ। এর মধ্যে আটজন কা’রাগারে গিয়ে জামিনে মুক্ত হয়। অন্যদিকে দুই ধ’র্ষ’ক থাকে ধ’রাছোঁ’য়ার বাইরে। এদিকে ধ’র্ষি’তা জন্ম দেয় এক ছেলে সন্তানের। নাম রাখা হয় জোহান মিয়া। বর্তমান বয়স প্রায় ১৫ মাস।

মঙ্গলবার সকালে খোঁজ নিতে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জন্ম নেওয়া শিশুটি বাড়ির উঠানে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। কাছে ডাকলে শিশুটি আগলে ধরে মাকে। শিশুটির মা জানান, বাবা দিনমজুর। মা পরের বাড়িতে কাজ করে। নিজের সন্তান নিয়ে কোনোমতে বে’চে আছি। ভবিষ্যতে কি হবে তা তিনি বলতে পারছেন না। নিজের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি না পেলেও তাঁকে প্রতিনিয়তই শুনতে হচ্ছে বিভিন্ন অ’পবাদ। তাকে যারা ধ’র্ষ’ণ করেছে তারা জামিনে এসে বাড়িতেই থাকছে। অ’বাধে চলাফেরা করছে চোখের সামনে দিয়ে।

এর মধ্যে ধ’র্ষ’ণে অ’ভিযু’ক্ত মোবারক হু’মকি দিয়ে বলে, আর কয়েক দিনের মধ্যেই মা’মলা ফিনিস হবে। এরপর মিথ্যা অ’পবাদের জন্য বাড়ি ছাড়া করা হবে। এ অবস্থায় একধরনের ভয়ে দিন পার করতে হচ্ছে।

মা’মলাটি চতুর্থ তদন্ত কর্মকর্তা হয়ে তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছেন নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হাসেম। তিনি বলেন, গত ১৮ আক্টাবর ২০১৯ সালে তিনি আ’দালতে ১০ আ’সামির বি’রুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন। এর মধ্যে জন্ম নেওয়া সন্তানের ডিএনএ টেস্ট করানো হয়েছে। কিন্তু অ’ভিযুক্তদের ডিএনও টেস্ট হয়নি। এখন এটা আ’দালতের বিষয়।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ

ad

পাঠকের মতামত