283084

‘আগুনের ফুটেজ দিছস ক্যান, খেয়ে ফেলব’

নিউজ ডেস্ক।। পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি, ওয়াহিদ ম্যানসন ভবনের মালিক মো. হাসান উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে স্থানীয় এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীকে ‘খেয়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আজম ওয়াহিদ ম্যানসনের পাশের ‘রাজমহল’ রেস্টুরেন্টের মালিক। তাঁর রেস্টুরেন্টের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ওয়াহিদ ম্যানসনের দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য ধরা পড়ে। গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ওই ভিডিও ভাইরাল হয়; ফুটেজের সুবাদেই নিশ্চিত হওয়া যায় ‘সিলিন্ডার বিস্ফোরণে’ আগুনের সূত্রপাতের দাবিটি গুজব ছিল।

রাজমহল রেস্টুরেন্টের মাালিক আজম বলেন, ‘আমি কাউকে কোনো ফুটেজ দিইনি। পুলিশ সব নিয়ে গেছে। তার পরও আমাকে হাসান দায়ী করছেন। গত ২০ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসান ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছেন। ‘আগুনের ফুটেজ দিছস ক্যান’ বলে তুইতুকারি করে তিনি হুমকি দেন- আমাকে দেখে নেবেন, খেয়ে ফেলবেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে ২৫ মার্চ চকবাজার থানায় একটি জিডি করেছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।’

হুমকির ব্যাপারে জানতে ওয়াহিদ ম্যানসনের মালিক হাসানের মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। চকবাজার থানার ওসি শামীমুর রশিদ তালুকদার জিডির বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন। তবে মোহাম্মদ আজমের জিডির তদন্ত কর্মকর্তা, চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান বলেন, জিডিটির নম্বর ১১৬৬। এতে হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইব্রাহীম খান বলেন, ‘জিডি হলে আমরা অবশ্যই জিডি দায়েরকারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব।’

গত ২০ ফেব্রুয়ারি চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পর গাঢাকা দেন ওয়াহিদ ম্যানসনের মালিক দুই ভাই মো. হাসান ও সোহেল ওরফে শহীদ। ২১ ফেব্রুয়ারি অগ্নিকাণ্ডে নিহত জুম্মনের ছেলে আসিফ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন, যে মামলায় ৬৪ নম্বর নন্দকুমার দত্ত রোডের ওয়াহিদ ম্যানসনের মালিক দুই ভাইকে আসামি করা হয়। গত ১১ মার্চ পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ দুই ভাই হাহকোর্ট থেকে তিন সপ্তাহের জামিন পান। আইনজীবীরা বলেছেন, ‘মামলার এজাহারে সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণ এবং ভবনের ঠিকানা ভুল লেখায় আসামিরা আদালতে সুবিধা পেয়েছেন।’ ওই জামিন পাওয়ার পর হুমকির ঘটনাটি ঘটল।

ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ৬৮ জন নিহতের লাশ হস্তান্তরের পরও চারজন নিখোঁজ আছে। এ ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় মধ্যে মর্গে পড়ে থাকা দুই নিহতের লাশ শনাক্ত হয়নি। নিখোঁজদের মৃত ধরলে চুড়িহাট্টায় নিহতের সংখ্যা ৭৪ জনে দাঁড়ায়। উৎস: কালের কণ্ঠ।

ad

পাঠকের মতামত