ছাত্রলীগ পরিচয়ে রাবির ২ ছাত্রকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি!
ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই ছাত্রকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ওই ছাত্রদের আটকিয়ে রেখে মারধর করা হয়।গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারের ব্যতিক্রম লাইব্রেরির সামনে একটি দোতলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী দুই ছাত্র হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবু ইউসুফ সাজিদ ও গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র কামারুজ্জামান সুমন।
আবু ইউসুফ সাজিদ বলেন, ‘আমি ও সুমন বিনোদপুর বাজারের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুটি রুম ভাড়া নিয়ে টিউশনি করাই। গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ কয়েকজন যুবক এসে স্থানীয় ছাত্রলীগের বড় নেতা দাবি করে। এখানে মাদক ব্যবসা করা হয়-এমন অভিযোগ তুলে আমাকে মারধর শুরু করে। মারধরের একপর্যায়ে আমার মানিব্যাগ-মোবাইল কেড়ে নেয়। এরপর তারা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আমার সহকর্মীকে টাকা নিয়ে আসার জন্য ফোন করতে বলে। আমি আমার সহকর্মীকে ফোন করি।’
ভুক্তভোগীর সহকর্মী কামারুজ্জামান সুমন বলেন, ‘ঘটনাস্থনে পৌঁছালে এখানে মাদকব্যবসা করা হয় বলে তারা (যুবকরা) আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে তারা তাৎক্ষণিক দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আমাকে আটকিয়ে রেখে সাজিদকে টাকা আনতে নিচে পাঠায়।’আবু ইউসুফ সাজিদ বলেন, ‘আমি দুই তলা থেকে নিচে গিয়ে এক বড়ভাইকে জানাই। ওই বড়ভাই পুলিশকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই যুবকরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় দিনার নামের ওই নেতা একটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে যায় এবং টাকা এনে ওই নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলে। এখন আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ ঘটনায় আমরা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করব।’
ওই নম্বরে ফোন দিলে দিনার নামের একজন ফোন রিসিভ করেন। তিনি চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই দিন আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী ছিল, তাই বাসা থেকে বের হইনি; এসব মিথ্যা অভিযোগ।’ কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য।’ঘটনায় উপস্থিত মতিহার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সিদ্দিক হুসাইন বলেন, ‘ঘটনাটি শোনামাত্র আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। কিন্তু আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। এখন ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেই আমি মতিহার থানা পুলিশকে অবহিত করি। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।’ সূত্র: দৈনকি আমাদের সময়




