অপহরণ থেকে বাঁচলেও জীবন শঙ্কায় সৌদি প্রবাসী বোরহান
ডিবি পরিচয় দিয়ে এক মাস আগে সৌদি প্রবাসী বোরহান আহম্মেদকে তুলে নিয়ে যায় একদল অপহরণকারী। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। সেখানে রেখে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন করা হয়।অপহরণকারীদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পান বোরহান। বেরিয়ে এসে মামলা করেন থানায়। কিন্তু তাতেও মেলেনি মুক্তি। মুক্তিপণের টাকার দাবিতে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে অপহরণকারীরা।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার এই সৌদি প্রবাসী নিজের জীবন ও পরিবার নিয়ে শঙ্কায় দিন পার করছেন। মামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, একমাস আগে ডিবি পরিচয়দানকারী একদল অপহরণকারী সৌদি আরব প্রবাসী বোরহান আহম্মেদকে উপজেলার মিরওয়াশপুর মাজেরা মঞ্জিলের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর অপহরণকারীরা তাকে কুমিল্লা শহরের পূর্ণতা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে রেখেই ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তার কাছে। এমনকি শারীরিক ও মানসিকভাবেও নির্যাতন চালানো হয় তার ওপর।
অপহরণকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রবাসী ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার শর্তে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কৌশলে পালিয়ে আসেন। কিন্তু বাকি টাকা না দেওয়ায় অপহরণকারীরা তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। পরে ওই প্রবাসী নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, জমি সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের কামরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে ওই প্রবাসীর। এ ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে কামরুজ্জামানের লোকজন ওই প্রবাসীকে অপহরণ করেছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন মোল্যা আমাদের সময়কে বলেন, ‘এ মামলায় আসামিদের আমরা গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’




