নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার পর এবার রেলস্টেশনে ‘বোমা উদ্ধার’
আজ শুক্রবার দুপুরে জুমআর নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে শেতাঙ্গ সন্ত্রাসীদের বন্দুক হামলায় ৪০ জনের বেশি মুসল্লি নিহত হয়েছেন।মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর পুরো নিউজিল্যান্ডে উচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। কিন্তু এরইমধ্যে অকল্যান্ডের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশন থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে।
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, অকল্যান্ডের ব্রিটমোর্ট ট্রান্সপোর্ট সেন্টার রেলস্টেশনে দুইটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পাওয়া যায়। পুলিশ ও বোমা নিস্ক্রিয়কারী দল দ্রুতই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ‘নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ’ ঘটিয়ে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয় বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।এছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রাইস্টচার্চ শহর কর্তৃপক্ষ। এর আগে, ডানেডিন-ক্রাইস্টচার্চ বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ডানেডিনে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে এমন খবরের ভিত্তিতে সেখানে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনটা শেষ করে জুমা আদায় করতে ঠিক দেড়টা নাগাদ পার্শ্ববর্তী আল নুর মসজিদে যাবেন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনটা দীর্ঘায়িত হয়েছিল বেলা ১টা ৪০ পর্যন্ত। হয়তো সেটাই রক্ষা করেছে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলকে।সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই জুমা ধরতে বাসে উঠেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বাসটি পৌঁছে গিয়েছিল যথাসময়েই। টিম টাইগারের সদস্যরা তখন মসজিদের সামনে পৌঁছেও গিয়েছিলেন।
মসজিদে প্রবেশ করবেন, ঠিক সেই মুহূর্তে মসজিদের ভিতর থেকে মধ্য বয়সের এক নারী রক্তাক্ত অবস্থায় টলোমলো পায়ে বেরিয়ে এসে রাস্তায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে যান। তামিমরা তখনো বুঝতে পারেননি, আসলে কী ঘটছে ভিতরে। এরপরই ভেসে আসে সতর্কবাণী। একজন চিৎকার করে বলে ওঠেন, মসজিদের ভিতর গুলি চলছে।অবস্থা দেখে তামিম, তাইজুল, মিরাজরা দ্রুত হেঁটে এসে বাসে উঠে পড়েন। এ সময় পুলিশ ওই রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ফলে বেশ কিছুক্ষণ বাসেই বসে থাকতে হয় তামিম, মুশফিকদের। তবে গুলির শব্দ ও আতঙ্কে তারা অনেকটা সময় বাসের ভেতর মাথা নিচু করে বসে ছিলেন। এ ভাবে বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর নিরাপদে মাঠে ফিরে আসেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলন অনেক ক্রিকেটারের কাছেই একটি অস্বস্তিকর একটি বিষয়। বিশেষ করে দল হারতে থাকলে অস্বস্তি আরো বাড়িয়ে তোলে এসব অনুষ্ঠান। ফলে অনেকে এসব সংবাদ সম্মেলন এড়িয়ে যেতে পারলে বা তাড়াতাড়ি তা শেষ করে দিয়ে আসতে পারলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন।কিন্তু শুক্রবার এ ঘটনার পর তামিমদের কাছে ওই সংবাদ সম্মেলনটি অনেক নিশ্চয়ই অনেক মধুর বলে মনে হচ্ছে। কারণ ওই সংবাদ সম্মেলন না থাকলে হয়তো তারা আরো আগেই মসজিদে পৌঁছে যেতেন। এমনকি ঠিক সময়মতো শেষ হলেও হয়তো হামলার মুখে পড়তে হতো বাংলাদেশ টিমকে।
এদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চেই শনিবার শুরু হওয়ার কথা ছিল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। কিন্তু এ হামলার ঘটনার পর সফর বাতিলের কথা ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। শীঘ্রই নিরাপদে জাতীয় ক্রিকেটারদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে।আর এ হামলার ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সারাবিশ্ব। হুমকির মুখে পড়েছে ‘শান্তির দেশ’ হিসেবে পরিচিতি নিউজিল্যান্ড। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও।




