275448

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর হবিগঞ্জ থেকে ‘ধর্ষক’ গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক।। শিশু ও নারী ধর্ষণকে অত্যন্ত গর্হিত একটি অপরাধ উল্লেখ করে গতকাল শনিবার নারী দিবসের অনুষ্ঠানে ধর্ষিতা নারীর পরিচয় গোপন রেখে ধর্ষণকারীকে সমাজের সকলের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের কাছে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণমাধ্যমের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অভিযানে ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তোফায়েল মিয়া (২০) হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বাঘেরখাল গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে।

র‌্যাবের শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ‘বই মেলায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথিত প্রেমিক, তার দুই বন্ধু ও এক পাহারাদার মিলে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত এক আসামিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে আটক করেছে র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা।’ র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তোফোয়েল প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গণধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া ধর্ষণ পরিকল্পনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনার বর্ণনাও সে দিয়েছে।’

র‌্যাবের শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে তোফায়েল জানিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরে তারা এই গণধর্ষণের নীলনকশা প্রণয়ন করে। পরিকল্পনা মোতাবেক প্রথমে মামুন ওই কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। তারপর পূর্ব সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ২১ ফেব্রুয়ারি কথিত প্রেমিক মামুন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সপ্তম শ্রেণির ওই ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বই মেলায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি হলে তাকে নিয়ে অটোরিকশায় ওঠে মামুন। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল তোফায়েল ও শিপন। সিএনজিতে উঠিয়ে মেলায় না নিয়ে অন্য দিকে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই কিশোরীকে তারা জাপটে ধরে। ওই ছাত্রী চিৎকারের চেষ্টা করলে তোফায়েলসহ তার অপর দুই বন্ধু মুখ চেপে ধরে। পরবর্তীতে বৃন্দাবন চা-বাগান এলাকার পাশের নির্জন পাহাড়ী স্থানে ওই ছাত্রীকে নিয়ে মামুনসহ অন্যরা তাকে গণধর্ষণ করে। পরে ধর্ষকেরাই ওই ছাত্রীকে তার বাড়ির কাছাকাছি একটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে তোফায়েল আরও জানায়, ওই কিশোরী ছাড়া আরও কয়েকজন তরুণীকেও প্রেমের ফাঁদে ফেলে গণধর্ষণের পরিকল্পনা ছিল তাদের।’

এএসপি মো. আনোয়ার হোসেন শামীম আজ রোববার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, চরম পেশাদার মানসিকতা সম্পন্ন এ ধর্ষক আত্মগোপনের জন্য গত ২০ দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেরিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য তিনি মুঠোফোন ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকেন। তবুও গুপ্তচর নির্ভর তথ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।

ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা নির্ম‚ল এবং ঘরে-বাইরে নারীর প্রতিটি মুহূর্তকে নিরাপদ করার লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন এই র‌্যাব কর্মকর্তা। এ সময় মামলার অন্য আসামিকেও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এ ধর্ষণের ঘটনার তিন দিন পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে বাহুবল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদেরকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব আসামি তোফায়েলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত