273434

ভাইরাল ‘সিক্রেট পার্টি’তে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের অসভ্যতা!

শিক্ষা ডেস্ক।। এটি একটি অন্যরকম ডিজে পার্টি। নাচ ও গানের সঙ্গে এখানে মুখোশ পড়ে এবং লাইট অফ করে ছেলেমেয়েদের অনৈতিক কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয়। মুখোশ পরার কারণ, কেউ যাতে কাউকে না চেনে বা কারও পরিচয় প্রকাশ না পায়। কারণ এটা ছিল ডিজে পার্টির সিক্রেট পর্ব। গোপন ওই পর্বের সব কিছু সিক্রেট রাখার নির্দেশ ছিল আয়োজকদের। কিন্তু সে নির্দেশ অমান্য করে সেখানে অংশ নেওয়াদের অনেকেই প্রকাশ্যে ছবি তুলে ও ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এনিয়ে এখন তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে দেখা যায় এক ছাত্রী এক ছাত্রের ওপর ঘোড়সাওয়ারের মত বশে অশ্লীলভাবে নাচানাচি করছে। এটা নাকি ঘোড়া চালানোর প্র্যাকটিস! এভাবে ওই অনুষ্ঠানে নানাভাবে শিক্ষার্থীরা অশ্লীলতায় মেতে উঠেন। তবে বিপত্তিটা ঘটে সেগুলো ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ায়। এনিয়ে এখন খোদ আয়োজক সংগঠনও বিপাকে পড়েছে। সিক্রেট পার্টিতে কী হয়েছে তারা নাকি সেটা জানতেন না।

জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল মডেল ইউনাইটেড নেশনস্ এর আয়োজনে রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোডের একটি ক্লাব কাম রেস্টুরেন্টে গত এক থেকে তিন মার্চ পর্যন্ত তিন দিন ব্যাপী ওই অনুষ্ঠানটি চলে। মডেল ইউনাইটেড নেশনস্ (মডেল ইউএন বা এমইউএন হিসেবেও পরিচিত) একটি অ্যাকাডেমিক অনুশীলন, যা বিজ্ঞান, যোগাযোগ ও বহুমূখী কূটনীতি নিয়ে কাজ করে। মডেল ইউনাইটেড নেশন্স সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা আন্ত-সরকারি সংস্থার (ইন্টারগভার্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন-আইজিও) অনুশীলন পর্বে বিদেশি কূটনীতিকের ভূমিকায় অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের একটি দেশ নিয়ে গবেষণা করতে হয় এবং সে দেশের কূটনীতিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো খতিয়ে দেখে এবং তা নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা করে এবং বৈশ্বিক ইস্যুগুলোর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে মডেল ইউনাইটেড নেশনস্ এর নামে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ মার্চ থেকে তিন মার্চ পর্যন্ত এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থিত একটি ‘ক্লাব কাম রেস্টুরেন্ট’-এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ‘আইমান’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা প্রবেশমূল্য দিয়ে তিন দিনের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল দেশের ইংরেজি ও বাংলা মাধ্যমের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানের সূচিতে দেখা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে ভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ করা হলেও সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানকে ‘সিক্রেট’ হিসেবে শুধুমাত্র নির্বাচিতদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। এসময় নিচু ক্লাসের কিশোর-কিশোরীদের প্রবেশাধিকার ছিল না। এই সিক্রেট অনুষ্ঠানেই নানারকম অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে কিছু শিক্ষার্থী যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

একজন অংশগ্রহণকারী জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেখানে থাকা মেয়েটি ঢাকার বিখ্যাত একটি স্কুলের নবম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। ভিডিওতে ওই কিশোরীকে যে মেয়েটি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে উৎসাহিত করছিল সে একজন উঠতি মডেল বলে জানা গেছে।

এদিকে, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব কন্টেন্ট পেয়েছি, সেগুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করছি। একইসঙ্গে এই ঘটনার পেছনে যারা রয়েছেন, অনুসন্ধান সাপেক্ষে তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। এছাড়া এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করার জন্য সামাজিক আন্দোলনসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উৎস: ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম

ad

পাঠকের মতামত