273164

এ কেমন স্কুল!

স্কুল ঘর রয়েছে। মাঠও আছে। কিন্তু বোঝার উপায় নেই। মাঠ দেখা যাচ্ছে না। চাষ হচ্ছে মৌসুমী সবজি। স্কুল ঘরটিও যেন পরিণত হয়েছে লাকড়িতে (জ্বালানি কাঠ)। বিনামূল্যের বইসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে বিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

বুধবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবর কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠান সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী। জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের বলিরাম গ্রামে ১৯৯০ সালে নারিকেল বাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিছুদিন ভালোভাবে পাঠদান চললেও পাশে আরো তিনটি বিদ্যালয় থাকায় বিগত এক যুগ ধরে পাঠদান বন্ধ হয়ে পড়ে।

২০০৮ সালের দিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের ৩০ শতাংশ জমি জবর দখল করে সেখানে বিদ্যালয়টি প্রতিস্থাপন করে নিজেই সভাপতির পদ দখলে নেন। প্রধান শিক্ষক এবং দুই ছেলে ও এক পুত্রবধূকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন তিনি। শুরু থেকে কাগজে কলমে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাঠদান দেখানো হলেও বাস্তবে বিদ্যালয়টি গুদাম ঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে, নিজের জমি ফিরে পেতে জমির প্রকৃত মালিক মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের দায়ের করে নিজের পক্ষে আদালতের রায় পান। কিন্তু তারপরও তাকে জমি ফিরিয়ে দেননি সেকেন্দার আলী। বিদ্যালয়টির বারান্দা থেকে পুরো মাঠে সবজি চাষাবাদ করেছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি।

স্থানীয়দের অভিযোগে সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে সেখানে পাঠদানের কোনো আলামত না পেয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ। ফলে বিদ্যালয়টির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেছেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী।

তিনি জানান, জাতীয়করণের জন্য প্রক্রিয়াধীন এ বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গিয়ে পাঠদানের কোনো পরিবেশ পাওয়া যায়নি। তাই নতুন বইসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে কেন প্রতারণা করা হয়েছে সে ব্যাখ্যা চেয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জবাব এলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ad

পাঠকের মতামত