মিয়ানমারের ক্রিকেট চালাচ্ছেন বাংলাদেশের বাপ্পী
ফুটবল, সেপাক তাকরো, বক্সি, কিক বক্সিং আর বাস্কেটবলের ভিড়ে বেশ পেছনের কাতারে মিয়ানমারের ক্রিকেট। তবে আসিয়ান অঞ্চলের এই দেশটি ক্রিকেটে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের এই প্রক্রিয়ার নেপথ্য নায়ক এক বাংলাদেশী। নাম আশফাকুল ইসলাম বাপ্পী। সাবেক ক্রিকেটার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক গেম ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের গেম অ্যাডুকেশন ম্যানেজার তিনি।। বাপ্পী একই সাথে মিয়ানমার জাতীয় পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ এবং মিয়ানমার ক্রিকেট ফেডারেশনের জেনারেল ম্যানেজার।
বৃটিশ আমল থেকে সাবেক বার্মা বা বর্তমান মিয়ানমারে ক্রিকেটের চর্চা শুরু হলেও মাঝে বন্ধ ছিল এই খেলাটি অনেক দিন। ২০০৫ সালে পুণরায় চালু করা হয় খেলাটি। তখনই কোচিং বিষয়ে এসিসি’র সহযোগিতা চায় মিয়ানমার। ২০১০ সালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) কোচ হন বাপ্পী। সে বছরই এসিসি তাকে মিয়ানমারের হেড কোচ হিসেবে পাঠায়। চার বছর এসিসির বেতনে এই দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) সাবেক এই ছাত্র। ২০১৫ সালে এসিসি তাদের বড় পরিসরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে সরাসরি মিয়ানমার ক্রিকেট ফেডারেশনের অধীনে চাকুরি করছেন বাপ্পী। তার রয়েছে এসিসি/সিএ’র (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) লেভেল থ্রি কোচিং সার্টিফিকেট।
বিকেএসপির প্রথম ক্রিকেট ব্যাচের ছাত্র বাপ্পী। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিবিসির ডিরেক্টর নাইমুর রহমান দুর্জয়, এবার বিপিএল এর চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ সালাউদ্দিনদের সাথে একই ব্যাচের ছাত্র ছিলেন তিনি। খেলতেন স্পিনার কাম ব্যাটসম্যান হিসেবে। ১৯৮৮-১৯৯২ সাল পর্যন্ত শান্তিনগর ‘বি’ দলের হয়ে খেলেছেন প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে। ১৯৯৩-৯৫ পর্যন্ত খেলেছেন আবাহনীর হয়ে। এরপর লেখাপড়ার চাপে ছাড়তে হয় ক্রিকেট। এরপরও ত্যাগ করতে পারেননি রক্তে মিশে থাকা ক্রিকেট। তাই আসেন কোচিং পেশায়। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন বিকেএসপির কোচ। এরপরেই চলে আসেন মিয়ানমারে।
অবশ্য বাপ্পীই এই দেশটিতে আসা একমাত্র বাংলাদেশী ক্রিকেট কোচ নন। ২০০৬ সালে চার মাসের জন্য মিয়ানমারের ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করেছেন বাংলাদেশের কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম। ফাহিম একই সাথে বাপ্পীরও কোচ। ‘বিসিবি এখন আমাকে পুণরায় পেতে চাইছে। তবে আপাতত মিয়ানমারের হেড কোচ এবং ফেডারেশনের জেনারেল ম্যানেজারের চাকুরিটা ছাড়ার ইচ্ছে নেই’- জানান বাপ্পী। স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে তিনি থাকছেন মিয়ানমারেই। পুরাতন রাজধানী ইয়াংগুনের ডাউন টাউনের সিক কান তারে বাসা তার। ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অনুষ্ঠিত আইসিসি এশিয়া কনফারেন্সের সভায় মিয়ানমারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাংলাদেশের মাগুরার এই সন্তান।
মিয়ানমারে এখনও লংগার ভার্সনের ক্রিকেট চালু হয়নি। যা কিছু চর্চা টি-২০, সিক্স এ সাইড, টি -১০ এবং ৫০ ওভারের ম্যাচ। দেশটি এখন আইসিসি এশিয়া ইস্টার্ন রিজিওন কোয়ালিফায়ার্সে খেলে। তা পুরষ ও মহিলা দুই বিভাগেই। ২০১৭ সী গেমসে পুরুষদের ক্রিকেটে ইন্দোনেশিয়াকে হারায় মিয়ানমার। এর আগে ভুটান ও চীনকে হারায় এসিসি আইসিসি ইভেন্টে। ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত চীনের যে কোনো লেভেলের দলের বিপক্ষে জিতে চলেছে মিয়ানমার।
মহিলা দলের গত বছর থেকে শুরু হয়েছে আন্তর্জাকিতক ম্যাচ। সিঙ্গাপুরে হোম আ্যান্ড অ্যাওয়েতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২ টিতে জয়। এরপর সিঙ্গাপুর মিয়ানমারে সফরে এলে তাতে চারটিতেই জয় স্বাগতিকদের। এ বছর জানুয়ারিতে থাইল্যান্ড ওমেন্স স্ম্যাশ টুর্নামেন্ট ছিল মিয়ানমার মেয়েদের প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক আসর। এতে দুই খেলায় জয় মালয়েশিয়া ও ভুটানের বিপক্ষে। এই পারফরম্যান্স ১০ দলের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থান এনে দেয় মিয়ানমারকে। বাপ্পী জানালেন,এই সাফল্যের ফলে মিয়ানমার সরকারের ব্যাপক আগ্রহ জন্মেছে ক্রিকেটের প্রতি।
বাপ্পী জানান, পুরো মিয়ানমারকে ১৫টি ডিভিশনে ভাগ করেছে মিয়ানমার ক্রিকেট ফেডারেশন। প্রতি ডিভিশনেই মাঠ আছে। আছে ইনডোরে অনুশীলনের ব্যবস্থাও। তবে ইয়াংগুনের সুয়ে পিন লনই মূল ক্রিকেট ভেন্যু দেশটির। এখানেও অবশ্য গ্যালারি নেই। দর্শকও আসে না ক্রিকেট দেখতে। ক্রিকেটারদের টাকা পয়সা পাওয়া শুরু হয়নি এই খেলা থেকে। যারা খেলেন- একান্তই শখের বসে। বাপ্পীর মনে করেন, পুরুষ দলের তুলনায় মিয়ানামরের মহিলা ক্রিকেট দলের সাফল্য আসবে দ্রুত।
১২ ক্লাব নিয়ে হয় ক্রিকেট লিগ এখানে। এছাড়া আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট, ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ, স্কুল চ্যাম্পিয়নশিপ, যুব ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।




