দিনে সিএনজিচালক, রাতে ভাড়ায় খুন!
পেশায় সিএনজিচালক হলেও রাতের অন্ধকারে সে ভাড়ায় মানুষ খুন করে থাকে। একজন মানুষ খুন করতে তার চাহিদা পাহাড়সমান টাকা নয়। মাত্র ৫ হাজার টাকা পেলেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সে মানুষ খুন করতে পারে।তার নাম কামাল হোসেন (২৮)। সে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মুসরি গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রূপগঞ্জ এলাকায় সিএনজি চালায় সে।
দুই মাস আগে ফতুল্লার পশ্চিম রসুলপুর এলাকায় বিকাশ এজেন্ট সাইফুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করেছে কামাল ও তার আরেক বন্ধু। হত্যা শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিহত সাইফুলের একটি মোবাইল নিয়ে যায় কামাল। এরপর খুনের মজুরি হিসেবে সে পেয়েছে ৫ হাজার টাকা। দুজন ব্যক্তির ভাড়া করা খুনি হিসেবে তারা দুজন সাইফুলকে খুন করে ছিলেন।
সোমবার রাতে রূপগঞ্জ থানার সামনে থেকে কামালকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। পরে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানায় কামাল।বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার কামাল হোসেন।নিহত সাইফুল ইসলাম নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার পরানপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। সপরিবারে ফতুল্লার পশ্চিম রসুলপুর বাতেন মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে বাড়ির পাশে ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের ব্যবসা করতেন সাইফুল।
মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার এসআই কামরুল হাসান বলেন, ১০ ডিসেম্বর রাত ১১টায় বাড়ির কাছে ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশ এজেন্টের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ফতুল্লার পশ্চিম রসুলপুর এলাকায় সামসুজ্জোহা রোডে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সাইফুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সাইফুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা আবুল কাশেম বাদী হয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।এসআই কামরুল হাসান জানান, এ মামলার দুই মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। এরপর খুনের সময় নিয়ে যাওয়া নিহত সাইফুলের মোবাইলের সূত্র ধরে তদন্ত চালাই। এতে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে সিএনজিচালক কামাল হোসেনের নাম-পরিচয়। এরপর কামালকে গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সাইফুলের মোবাইল।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামাল জানায় তারা দুজন সাইফুলকে হত্যা করেছে ভাড়াটিয়া খুনি হিসেবে। তাদের দুজনকে দুই ব্যক্তি ভাড়া করেছে। এ হত্যায় সে ৫ হাজার টাকা পেয়েছে। হত্যার সময় সাইফুলের মোবাইলটি মাটিতে পড়ে গেলে সেটি কামাল নিয়ে যায়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।




