220046

শিকলে বাঁধা জীবনে কেটে গেল ২৪ বছর!

বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশের পিয়ারী বেগম (৪৫)। এর পর টানা ২৪ বছর ধরে শিকলে বাঁধা বন্দী জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

জানা গেছে, উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের জন্তিহার গ্রামের মৃত নওসের আলীর বড় মেয়ে পিয়ারী বেগম। কিশোরী বয়সেই বাবা গ্রামের যুবক সোনাউল্লাহর সঙ্গে বিয়ে তার দেন। তার পর কিছু দিন যেতে না যেতেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন পিয়ারী। এখন পৈতিক বসতঘরের সঙ্গে লাগানো ছোট্ট একটি ঝুপরি ঘরে শিকলে বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। অথচ ৩০ বছর আগের এই মেয়েটি ছিল সুস্থ এবং সুন্দরী।

পিয়ারীর বড় ভাই আব্দুল খালেক জানান, একদিকে কিশোরী বয়সে বয়সন্ধিকালের ঝামেলা, অন্যদিকে স্বামীর সংসারের উৎপাতে মানসিক ভারসাম্য হারাতে থাকে তার বোন। পরে মানসিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী নিয়ে সংসার করতে অস্বীকৃতি জানায় সোনাউল্লাহ। ফলে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এ ধাক্কা সামলাতে না পেরে পিয়ারী পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

তিনি বলেন, দারিদ্র্যতার কারণে বাবা-মা পিয়ারীর উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেনি। এদিকে মানসিক রোগীর উৎপাত ও দুরদুরান্তে ছুটে চলে যাওয়া থেকে বোনকে বাঁচাতেই তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়। পরে বাবা-মা মারা গেলেও ২৪ বছর ধরে সেই শিকলে বাধা জীবনী বয়ে বেড়াচ্ছে পিয়ারী।

আব্দুল খালেক আরও বলেন, কেউ কাছে গেলে কামড়ে ধরে তাকে রক্তাক্ত করে ফেলে পিয়ারী। তাই দূর থেকে তাকে খাবার ছুড়ে দেওয়া হয়। তবে কোনো মানসিক হাসপাতালে রেখে উন্নত চিকিৎসা দিলে সমাজের আরও ১০ জন মানুষের মতো সে সুস্থ-সুন্দর জীবন ফিরে পেতো বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহাদত হোসেন বলেন, শিকলে বাঁধা পিয়ারীর কথা তিনি এই প্রথম জানলেন। পিয়ারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ad

পাঠকের মতামত