213653

ফয়সালের লাশ উত্তোলন, তোলা হবে নাজিয়ার লাশও





নিউজ ডেস্ক।। নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিবেদক ফয়সাল আহমেদের লাশ উঠানো হয়েছে রাজধানীর বনানী কবরস্থান থেকে। তাঁর পরিবার সেই লাশ নিয়ে রওনা হয়েছেন গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের উদ্দেশে। তাঁরা যাওয়ার পর তোলা হবে একই দুর্ঘটনায় নিহত নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর লাশও।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে বনানী কবরস্থান থেকে ফয়সালের লাশ তোলা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর মামা কায়কোবাদ।

এদিকে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর স্বজনেরা ফয়সালের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে যাচ্ছেন তাঁর লাশটি তুলতে। বনানী কবরস্থান থেকে ফয়সালের লাশবাহী গাড়িতে করেই তাঁর স্বজনেরা যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ফয়সালের মামা কায়কোবাদ।

কখন আপনারা নিশ্চিত হলেন যে লাশটি ফয়সালের ছিলো না-এমন প্রশ্নে কায়কোবাদ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘কফিনের বাইরে তো ফয়সালের নাম ছিল। আমরা তো লাশ খুলিনি। লাশ খুলেছি কবরস্থানের পাশে গিয়ে। তখন লাশটি ছোট ছোট মনে হচ্ছিল কিন্তু আমরা এত বেশি ভেবে দেখিনি।’

কায়কোবাদ আরো বলেন, ‘কফিনের ভেতরে নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর ননাম একটি কাগজে লেখা ছিলো কিন্তু আমরা সেটা খেয়াল করিনি! এরপরে লাশ দাফন করা হয়ে গেলে ওই কাগজে লেখা নাজিয়ার নামটি আমাদের নজরে আসে। তখন আমরা নিশ্চিত হয়ে যাই যে এটা ফয়সাল আহম্মেদের লাশ নয়। কিন্তু তার ভেতরে তো লাশ দাফন করা শেষ।’

এই লাশ কীভাবে পরিবর্তন হয়েছিল-এমন প্রশ্নে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এই লাশ পরিবর্তন হওয়ার কোনো সুযোগ ছিলো না। কারণ লাশের কফিনের ওপর ফয়সালের নাম এবং পাসপোর্ট নম্বর লেখা ছিল। তাছাড়াও ফয়সালের লাশ বিমান বন্দর থেকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা হলো, বৈশাখী টেলিভিশনে নিয়ে যাওয়া হলো, ডিআরইউতে নিয়ে যাওয়া হলো। এর ভেতরে কেউ বুঝতে পারেনি। কারণ কফিনে ফয়সালের নাম লেখা ছিলো। ভেতরে তো কেউ খুলে দেখিনি।’

কামরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘লাশ পরিবর্তন হলে হয়েছে নেপাল থেকে। সেখানকার মর্গ থেকে শুধু নেম প্লেট পরিবর্তন হয়ে গেছে বলে আমার ধারণা। এই ছাড়া পরিবর্তন হওয়ার আর কোনো সুযোগ তো দেখি না।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খোরশেদ আলম এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘কেউ কি ইচ্ছে করে চায় কারো লাশ পরিবর্তন করে দিতে। নেপাল থেকে হয়তো কোনো না কোনোভাবে পরিবর্তন হয়েছে। তবে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ফয়সাল আহম্মেদের পরিবার এই লাশ দেখার পরেও কেন দাফন করল? তারা পুলিশের সহায়তা কেন নিলো না? নিলে তো আর আদালত পর্যন্ত যাওয়া বা এত ঝামেলা হয় না।’

নাজিয়া লাশ উত্তোলনের নির্দেশ




আমাদের শরীয়তপুর প্রতিনিধি আব্দুল আজিজ শিশির জানিয়েছেন, নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত ঢাকার নাজিয়া আফরিনের বদল হওয়া লাশ শরীয়তপুরের ডামুড্যা থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. এহসানুল হক এ নির্দেশ দেন।

লাশ বদলের বিষয়টি জানতে পেরে ঢাকার আদালতে আবেদন করেন ফয়সালের পরিবার। অন্যদিকে শরীয়তপুর আদালতে আবেদন করেন নাজিয়ার পরিবার।

আজ বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. এহসানুল হক নাজিয়ার লাশ শরীয়তপুরের ডামুড্যা থেকে উত্তোলন করে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহেরের কাছে একটি অনুলিপি দেন। বর্তমানে নাজিয়ার পরিবারের লোকজন তাঁর লাশ গ্রহণের জন্য শরীয়তপুরে অবস্থান করছেন। অন্য দিকে সাংবাদিক ফয়সালের পরিবার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ির পথে রয়েছে।

নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর ভাই আলী আহাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা লাশের জন্য অপেক্ষা করছি। আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা আমাদের হাতে লাশ তুলে দিবেন।’

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহেরের বলেন, নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর লাশ উত্তোলনের জন্য আদালতের একটি নির্দেশনা আমরা পেয়েছি। ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র : এনটিভি অনলাইন

ad

পাঠকের মতামত