213663

অন্ধ পিয়নের বেতন ১১ বছর ধরে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক

নিউজ ডেস্ক।। ১১ বছর ধরে অন্ধ পিয়নের স্বাক্ষর জাল করে তার বেতন আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক! এ ঘটনা জানার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছী ইউনিয়নের বগেরগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

অভিযুক্ত রেজাউল ইসলাম ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আর ফজলুর রহমান একই বিদ্যালয়ের পিয়ন। বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

ফজলুর রহমান জানান, ১৯৯০ সালের ২ জানুয়ারি তিনি উপজেলার বগেরগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পিয়ন পদে চাকরিতে পান। ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি তার চাকরিটি এমপিওভুক্ত হয়।

২০০৫ সালে দুর্ভাগ্যবশত ফজলুর রহমানের দুটি চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এই সুযোগে প্রধান শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন।বলেন, তার বেতন-ভাতা বন্ধ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় চিকিৎসার টাকার কথা বলে দরখাস্তের জন্য পিয়নের কাছে একটি সাদা কাগজে সাক্ষর নেন ফজলুর রহমান। পরে তিনি কাগজটিতে পদত্যাগপত্র লিখে লুকিয়ে রাখেন।

পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে পিয়নের কোটচাঁদপুর রুপালি ব্যাংকের শাখার চেকবইয়ের ৮টি পাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এরপর থেকে চেকবইয়ের পাতা শেষ হলে প্রধান শিক্ষক নিজেই ভুয়া স্বাক্ষর করে ফজলুরের বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। এভাবেই ২০০৬ সাল থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফজলুর রহমানের বেতন তুলে নিয়েছেন তিনি।

ফজলুর বলেন, আমি অন্ধ, চোখে দেখি না, তাই প্রধান শিক্ষক আমার সঙ্গে এমন করল। এ বিষয়ে জানতে রেজাউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। উৎস: বিডি জার্নাল।

ad

পাঠকের মতামত