রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাকবিতণ্ডা আর ধাক্কাধাক্কির যত গল্প ও ছবি
ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার মাঝে এমন উত্তেজনা কোনোদিন দেখা যায়নি। বাংলাদেশ গতবছরই মাত্র প্রথম জয় পেয়েছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে। এর আগে খুব বাজেভাবেই হারতে হতো টাইগারদের। তবে এখন যখন সমানে সমানে লড়াই চলে, পাশাপাশি জন্ম নিয়েছে উত্তেজনার। তবে গতকাল শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিদাহাস ট্রফির অঘোষিত সেমিফাইনালে যেসব কাণ্ড হলো, তাতে দুই দলের লড়াই নিঃসন্দেহে নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১২ রান। উইকেটে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান বলতে মাহমুদ উল্লাহ। বোলার ইসুরু উদানার করা প্রথম বলটি ছিল বাউন্সার। রান নিতে পারেননি মুস্তাফিজ। পরের বলও বাউন্সার, আবারও রান নেই। মাহমুদউল্লাহকে স্ট্রাইক দিতে গিয়ে রান আউট মুস্তাফিজ। এখান থেকেই শুরু হয় সমস্যার। কারণ দুটি বল মাথার ওপর দিয়ে গেলেও নো বল ডাকেননি আম্পায়ার।

মাহমুদ উল্লাহ প্রতিবাদ জানান আম্পায়ারের কাছে। আম্পায়ার নো বল দেওয়ার জন্য হাত তুললে তেড়ে আসেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। মাঠের বাইরে ডাগ আউটে তখন উত্তেজিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করছেন। দুই ব্যাটসম্যানকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।

ইতিমধ্যেই মাঠে ঢুকে পড়েছেন একাদশের বাইরে থাকা নুরুল হাসান সোহান। এর মাঝেই আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে থাকা মাহমুদ উল্লাহকে বিদ্রুপ করতে শুরু করেন লঙ্কান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। সোহান মাহমুদ উল্লাহর পাশে গিয়ে তর্কে লিপ্ত হন থিসারার সাথে। আঙুল উঁচিয়ে তকে সতর্ক করেন এই তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। দুজনের মধ্যে যখন প্রায় হাতাহাতির উপক্রম, তখন মাহমুদ উল্লাহর হস্তক্ষেপে মাঠ ছাড়েন সোহান।

ততক্ষণে সাকিবকে বুঝিয়ে সুজিয়ে ঠাণ্ডা করেছেন ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। মাহমুদ উল্লাহ এবং রুবেল হোসেন মাঠ ছাড়তে গিয়েও সুজনের নির্দেশে আবার ফিরে যান। ডিসকোয়ালিফাইড হওয়া থেকে বাঁচে বাংলাদেশ। সেই মাহমুদ উল্লাহই শেষ পর্যন্তে ছক্কা মেরে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। জয়ের পর নাগিন নাচের পাশাপাশি আবারও শুরু হয় দুই দলের ক্রিকেটারদের বিবাদ।

মাঠ ছাড়ার সময় সাব্বির কিছু একটা বলেছিলেন কুশল মেন্ডিসকে। আর যায় কোথায়! কুশল তেড়ে গেলেন সাব্বিরের দিকে। পরিস্থিতি মারামারির পর্যায়ে যাওয়ার আগেই তামিম ইকবাল ছুটে গিয়ে কুশলকে থামালেন। তাকে একপ্রকার টেনে নিয়ে চললেন মাঠের বাইরে। সোহানও যোগ দিলেন এই ঝগড়ায়। তাকে নিরস্ত্র করতে দেখা গেল কোচ কোর্টনি ওয়ালশকে। শেষ পর্যন্ত বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে শাস্তি পেতে হয়েছে সাকিব এবং সোহানকে। আর গ্যালারিতে লঙ্কান দর্শকরা হামলা করেছে বাঘ সেজে যাওয়া শোয়েব আলীর ওপর। ভাংচুর করা হয়েছে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের কাঁচ। সব মিলিয়ে যেন যুদ্ধকালীন উত্তেজনা!




