360315

মায়ের কাছে চিঠি লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নিউজ ডেস্ক।। বরগুনা শহরের কলেজ সড়ক খামারবাড়ি এলাকায় সামিরা (১৪) নামের এক অষ্টম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বাড়ির মালিকের ছেলের যৌন হয়রানি ও মিথ্যা অপবাদ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সামিরা।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাড়া বাসার বাথরুম থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসী অভিযুক্ত বাড়ির মালিকের ছেলে দুই সন্তানের জনক জামাল (৩৫) কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। সামিরা আত্মহত্যা করার আগে মায়ের কাছে চিঠি লিখে রেখে গেছে। আটক জামাল হোসেন একই এলাকার আবুল বাশারের ছেলে।

সামিরার পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, সামিরার বাবার সঙ্গে মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে ৫-৬ মাস পূর্বে দ্বিতীয় স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে কলেজের উত্তর পাশে খামার বাড়ির সামনে আবুল বাশারের বাসা ভাড়া নেয় সামিরার মা। পাশেই আবুল বাশারের ছেলে জামাল স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। সামিরা গোসলে গেলে জামাল প্রায়ই উঁকি দিয়ে দেখতো এবং অশ্লীল ইঙ্গিত করতো। বিষয়টি সামিরা তার মাকে এবং জামালের স্ত্রীকে জানায়।

এলাকার অনেকেই বিষয়টি জেনে যায়। জামাল সামিরাকে বাহিরে দেখলেই অশ্লীল মন্তব্য ও ইঙ্গিত করতো। উল্টো জামাল সামিরার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে দেয়। দুইদিন আগেও জামাল অশ্লীল মন্তব্য করলে সামিরার মা মোবাইলে জামালের বাবাকে জানায়।

এ বিষয়ে সামিয়ার মা সুমি বেগম জানিয়েছেন, আবুল বাশারের ছেলে জামাল হোসেন স্ত্রী সন্তান থাকা সত্ত্বেও কিশোরী সামিরাকে উত্যক্ত করতো। একাধিকবার সামিরাকে শারীরিকভাবেও লাঞ্চিত করে।

গত কয়েকদিন ধরে সামিরা ও জামালকে জড়িয়ে প্রতিবেশীরা অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলছিলো। রোববার রাতে সুমী বেগম বাসা মালিক আবুল বাশারকে মোবাইল করে তার ছেলের অপকর্মের কথা জানায়। আবুল বাশার গ্রামের বাড়ি থেকে এসে জামালকে শাসন করবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। সামিরা জামালের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করলেও তার মা ছাড়া অন্য কেউ মেনে নিচ্ছিলেন না। মা ছাড়া সবাই সামিরাকে গালমন্দ করেছিলো।

বরগুনা থানার ওসি তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। এলাকাবাসী উত্যক্তকারী জামালকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তাকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। সামিরার মরদেহ পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ad

পাঠকের মতামত