342924

অ’নশনে অ’সুস্থ ধ’র্ষণের অ’ভিযো’গকারী ঢাবির সেই ছাত্রী

সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা হাসান আল মামুনের বি’রুদ্ধে ধ’র্ষণের অ’ভিযোগকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষার্থী অনশনে অ’সুস্থ হয়ে পড়েছেন। টানা ২৭ ঘণ্টা অনশনের পর গতকাল শুক্রবার রাতে শা’রীরিকভাবে দু’র্বল হয়ে পড়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অ’নশনকারী এই শিক্ষার্থী ইসলামি স্টাডিজ বিভাগে পড়ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সাবেক এজিএস ফাল্গুনী দাস তন্বী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে খাবার গ্রহণের জন্য অনেক অনুরোধ করেছি। কিন্তু তিনি আ’সামিদের না ধরা পর্যন্ত আম’রণ অ’নশনে করতে সংকল্প’বদ্ধ। টানা ২৭ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার ফলে রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে চিকিৎসক টিম এসে তাকে স্যালাইন দিয়েছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. শেখ মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক টিম রাতে ওই ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় বলেও জানান ফাল্গুনী দাস তন্বী।

আজ শনিবার সকালে ওই ছাত্রীর পাশে সংহতি জানিয়ে অবস্থানরত সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক জেসমিন আক্তার রিপা বলেন, ‘একটানা না খাওয়ার কারণে রাতে তিনি দু’র্বল হয়ে পড়েছেন। তার অবস্থার খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনি ১১ বার বমি করেছেন। আমরা আপাতত স্যালাইন চালিয়ে নিচ্ছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম ওই ছাত্রীর সার্বিক নি’রাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছেন। রাতে আমাদের সহকারী প্রক্টর তাকে দেখে এসেছেন। ওই শিক্ষার্থীর পাশে আমরা আছি। তার জন্য বিশ্ববিদ্যালযের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার, তা করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগ ও কোতোয়ালি থানায় ধ’র্ষণ, অপ’হরণ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চরিত্র হননের অ’ভিযোগে হাসান, নুর এবং তাদের চার সহযোগীর ‘বি’রুদ্ধে নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন আ’ইন এবং ডিজিটাল নি’রাপত্তা আইনে দুটি মা’মলা করেন এই ছাত্রী।

‘মামলায় প্রধান আ’সামি করা হয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হাসানকে। এই অ’ভিযোগ ষ’ড়যন্ত্র’মূলক বলে দাবি করলেও মা’মলার পর ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় হাসানকে।

মা’মলার অন্য আ’সামিদের বি’রুদ্ধে ধর্ষ’ণে সহযোগিতার অ’ভিযোগ আনা হয়েছে। নূর ছাড়া অন্য আ’সামিরা হলেন- পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা ও কর্মী আবদুল্লাহ হিল বাকি।

মা’মলার এজহারে ওই ছাত্রীর ভাষ্য, একই বিভাগে পড়া এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কাজে থাকার কারণে হাসান আল মামুনের সঙ্গে তার ‘প্রেমের সম্পর্ক’ গড়ে ওঠে। এর সুযোগ নিয়ে মামুন চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তার লালবাগের বাসায় নিয়ে তাকে ‘ধ’র্ষণ’ করেন। পরে সোহাগও তাকে ‘ধ’র্ষণ করেন’ বলে অ’ভিযোগ করা হয়েছে মা’মলায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ওই তরুণী নূরের সঙ্গে দেখা করেন। নূর তাকে প্রথমে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে ‘বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানি করার’ হু’মকি দেন।

ধ’র্ষণের মাম’লা দায়েরের দুই সপ্তাহ পরেও আ’সামিদের কেউ গ্রে’প্তার না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে অনশনে বসেন ওই ছাত্রী। অনশনে বসে তিনি বলেছিলেন,‘ধ’র্ষকরা প্রকা’শ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রে’প্তার করা হচ্ছে না। মা’মলা তদন্তের স্বার্থে আমি একাধিকবার থানায় যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছেন, আ’সামি ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তির বলে আ’সামিরা গ্রে’প্তার হচ্ছে না।’

ad

পাঠকের মতামত