মৌলিক দাবির ভিত্তিতেই সরকার পতনের আন্দো’লন করবোঃ নুর
মৌলিক দাবির ভিত্তিতেই সরকার প’তনের আ’ন্দোলন করার কথা জানিয়েছেন ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। গতকাল ডয়চে ভেলে বাংলার এক সাক্ষাতকারে নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা, সাম্প্রতিক ধ’র্ষ’ণ মা’মলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় নুর বলেন, এই মুহূর্তে কেউ যদি আমাকে বলে যে সরকার প’তনের আ’ন্দোলন করো, আমি কিন্তু সেটা করবো না৷ কারণ হচ্ছে, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্র’তার’ণা, দু’র্ণীতি, তাদের শা’সনের নামে শো’ষণ আমরা দেখেছি৷ যদি একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে এবং ন্যূনতম কিছু শর্তের ভিত্তিতে একটা গ’ণআ’ন্দোলন হয়, যেমন ধরেন, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে, আ’ইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে- এই ধরনের কিছু মৌলিক দাবি-দাওয়া যদি চূড়ান্ত হয়, সেই দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে আমরা এই অ’বৈধ স্বৈ’রাচা’রের বি’রু’দ্ধে আ’ন্দোলন করতে পারি।
যে সরকারকে অ’বৈধ বলছেন, সেই সরকার পতনের আ’ন্দোলন করবেন না কেন? এমন প্রশ্নে নুর বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আ’ন্দোলন, বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট- সবাই এই সরকারের প’তন চায়৷ কিন্তু এই সরকারের প’তন আমরা ঘটালাম, তার পরবর্তী যে সরকার আসবে তারা কী করবে? এই দেশের কী মৌলিক পরিবর্তন করবে? মৌলিক দাবির ভিত্তিতেই আমরা সরকার প’তনের আ’ন্দোলন করবো৷ কারণ, আমরা একটা স্বৈ’রাচা’রকে সরিয়ে তো আরেকটা স্বৈ’রাচা’রকে ক্ষ’মতায় বসাবো না৷ সে কারণে এই দেশের শা’সন ক্ষ’মতায় কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
কী কী ধরনের মৌলিক পরিবর্তন তারা চান সেই বিষয়গুলো তুলে ধরে নুর বলেন, কেউ দুই-তিনবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না৷ গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না৷ বি’চার বিভাগকে স্বাধীন করতে হবে৷ স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না৷ আমরা এই ধরনের কিছু জনসম্পৃক্ত দাবি দাওয়া ঠিক করছি৷ এর ভিত্তিতেই আমরা স্বৈ’রাচার প’তনের আ’ন্দোলন করবো বা সরকার বি’রোধী আ’ন্দোলন করবো৷ এই দাবি-দাওয়া চূড়ান্তের আগে আমরা সরকারবি’রোধী আ’ন্দোলন করবো না।
নিজেদের দলে ভেড়ানোর জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে৷ এমনকি আওয়ামী লীগও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে দাবি করে নুর জানান, এই মুহূর্তে কোনো দলেই যোগ দেবেন না, বরং বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইবেন৷ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে নূর বলেন, ৭১-এ তাদের ভূমিকা ছিল নিন্দনীয়।
সম্প্রতি নুরসহ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বি’রু’দ্ধে নারী ও শিশু নি’র্যাতন দমন আ’ইন এবং ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইনে দুটি মা’মলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী৷ প্রথম মা’মলায় প্রধান আ’সামি করা হয়েছে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হাসান আল মামুনকে৷ দ্বিতীয় মা’মলায় প্রধান আ’সামি একই সংগঠনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ৷ এরই মধ্যে হাসান আল মামুনকে পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে৷ এ বিষয়ে নুর বলেন, ‘হাসান আল মামুন ও নাজমুল হাসান ছাড়া অন্যদের বি’রুদ্ধে ছাত্রী নির্দিষ্ট কোনো অ’ভিযোগ আনতে পারেননি৷ ছাত্রীর সঙ্গে হাসান আল মামুনের সম্পর্ক ছিল৷ এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উ’দ্দেশ্যে মা’মলা করা হয়েছে৷ নুর জানান, দুই থেকে আড়াই মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রী ঢাকার বাইরে থেকে একবার তাকে ফোন দিয়েছিলেন৷ সমস্যায় পড়ার কথা বলে সহযোগিতা চেয়েছিলেন৷ ঢাকায় এসে বিস্তারিত বলবেন বললে ওই ছাত্রী তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। সে বলেছে, নীলক্ষেতে আমি তার সঙ্গে বসেছিলাম বিষয়টি সমাধান করার জন্য৷ সেখানে নাকি বা’ড়াবা’ড়ি না করার জন্য তাকে হু’ম’কি দিয়েছিলাম৷ আমি বলেছি, প্রমাণ করতে পারলে সমস্ত অ’ভিযোগ মেনে নেবো৷ এই বিষয়ে সে কোনো তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি৷ সূত্রঃ ডয়চে ভেলে






