আড়াইকোটি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার
ম’হামারি করোনা ভাইরাসের পরীক্ষাধীন দুটি টিকা সফল প্রমাণিত হলে প্রায় সাড়ে আট কোটি ডোজ ভ্যাকসিন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একটি অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা এবং অন্যটি কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও সিএসএলের ভ্যাকসিন।
অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, তাঁর দেশ দুটি টিকা পেতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তিও করেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম এবিসি।
প্রধানমন্ত্রী মরিসন ভ্যাকসিনের ব্যাপারে আরও বলেন, দুটি টিকা সফল প্রমাণিত হলে তা জনগণকে বিনা মূল্যে দেয়া হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী বছরেই তা জনগণকে দেয়া শুরু হবে। যার খরচ হবে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১২৪ কোটি মার্কিন ডলার।
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় আড়াই কোটি মানুষ আগামী জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে কোভিড-১৯’র ভ্যাকসিন পাবেন। তবে এটি নির্ভর করবে নিরাপদ প্রতিষেধক তৈরির ওপর। যদিও কার্যকর টিকা পাওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার যে চুক্তি করেছে, তাতে আগেভাগেই ভ্যাকসিন পাবে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সেজন্য নিজ দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেতে হবে বলে জানান মরিসন। অক্সফোর্ড ও কুইন্সল্যান্ডের দুটি টিকার ক্ষেত্রেই জনগণকে দুই ডোজ করে টিকা নিতে হবে।
এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অধিকাংশ টিকা নিজ দেশেই তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব টিকা দেশটির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিএসএল উৎপাদন করবে বলে সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে। ৩ কোটি ৩৮ লাখ ডোজ অক্সফোর্ডের টিকা ও ৫ কোটি ১০ লাখ ইউনিট কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকার জন্য আবেদন করেছেন।
এদিকে, অক্সফোর্ডের টিকাটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে রয়েছে। এই ভ্যাকসিন দেশের ৩০ হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রথম ধাপে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।
অস্ট্রেলিয়া বলছে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য টিকা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। আর নিজ দেশের চাহিদা পূরণ করে অন্য দেশের প্রয়োজনে বিক্রি করবে বলে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় নিরাপদ ও কার্যকর টিকা তৈরির দৌড়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্তত ১৪৫টি রয়েছে।










