324476

‘পাচারকালে ঝামেলা হওয়ায় হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটে থাকতে পারে’

নিউজ ডেস্ক।। লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী শ্রমিককে গু’লি করে হ’ত্যা করেছে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যের পরিবারের লোকজন। নি’হত বাকি চারজন আফ্রিকান।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) লিবিয়ার সংবাদমাধ্যমে এ খবর জানিয়ে বলা হয়েছে, সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের মিজদা শহরের এ ঘটনায় আরও ১১ জন আ’হ’ত হয়েছেন।

এ ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, দুঃখজনকভাবে ২৬ জন নি’হত, ১১ জন আ’হত। পাচারকারীরা ত্রিপলি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে তাদের হ’ত্যা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে অন্য কোনো দেশে তাদের পাচার করা হচ্ছিল। পথিমধ্যে তাদের সাথে কোনো ঝামেলা হওয়ায় পাচারকারীরা তাদের মে’রে ফেলেছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সকল অভিবাসী মিজদা শহরের এক মানবপাচারকারীচক্রের কাছে জিম্মি ছিলেন। কোনোভাবে ওই পাচারকারী গতরাতে অভিবাসীদের হাতে খু’ন হন। পরে পাচারকারীর সহযোগী এবং আত্মীয়স্বজনরা জিম্মি অভিবাসীদের ক্যাম্পে নির্বিচারে গুলি চালালে ঘটনাস্থলে ২৬ জন বাংলাদেশীসহ ৩০ জন মা’রা যান।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, বাংলাদেশিসহ ওই অভিবাসীদের মিজদা শহরের একটি জায়গায় টাকার জন্য জিম্মি করে রেখেছিল মানবপাচারকারী চক্র। এ নিয়ে এক পর্যায়ে ওই চক্রের সঙ্গে মা’রামা’রি হয় অভিবাসী শ্রমিকদের। এতে এক মানবপাচারকারী মা’রা যায়। তারই প্র’তিশো’ধ হিসেবে সেই মানবপাচারকারীর পরিবারের লোকজন এ হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটায়।

এ বিষয়ে লিবিয়ার পশ্চিমা-সমর্থিত জাতীয় সরকার (জিএনএ) জানিয়েছে, মানবপাচারকারী চক্র ও অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে যে বিরোধ চলে আসছিল, তার জেরে এই হ’ত্যা’কাণ্ড ঘটেছে। আ’হত’দের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) লিবিয়া কার্যালয়ের মুখপাত্র সাফা সেহলি বলেন, আমরা এই মর্মান্তিক হ’ত্যাকা’ণ্ডের খবরটি শুনেছি এবং বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। যারা বেঁ’চে গেছেন তাদের পাশে আছে আইওএম।

মোয়াম্মার গাদ্দাফির সময় থেকে তৈল-নির্ভর অর্থনীতির দেশ লিবিয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর অন্যতম বড় শ্রমবাজার। এই দশকের শু’রুতে আরব বসন্তের জেরে গাদ্দাফির পতনের পর গৃ’হযু’দ্ধ বেঁধে গেলে লিবিয়ার শ্রমবাজারও ধাক্কা খায়। এক পর্যায়ে দেশটি হয়ে ওঠে ইউরোপে পাড়ি দেয়ার প্রধানতম রুট।

অন্যদিকে জিএনএকে পশ্চিমা দেশগুলো স্বীকৃতি দিয়ে এলেও সেখানে ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর শাসন কায়েম রয়েছে। ক্ষমতার সং’ঘা’তে লিবিয়ায় প্রায়ই বেসামরিক লোকজনের প্রা’ণহানি’র ঘটনা ঘটে। উৎস: জাগোনিউজ২৪

ad

পাঠকের মতামত