316132

কোন দেশ কী ওষুধ ব্যবহার করছে

নিউজ ডেস্ক।। বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রতিষেধক ও ওষুধ আবিষ্কারে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক দেশের বিজ্ঞানীরাই। যদিও এখনো এ রোগের অব্যর্থ কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে এরই মধ্যে কিছু দেশ করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এইডস, ম্যালেরিয়াসহ আরও কয়েকটি ওষুধ ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে। এগুলো থেকে বাছাই করা চারটি সম্ভাবনাময় ওষুধ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও

(ডব্লিউএইচও) কাজ করছে বলে জানিয়েছে। আবার চীনে এ রোগের চিকিৎসায় ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ওষুধও ব্যবহার হয়েছে বলে খবর এসেছে। গত জানুয়ারিতে করোনা যখন চীনে মহামারী আকার নিতে শুরু করে তখনই জানা যায়, দেশটি এই রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় বেশ কয়েকটি প্রচলিত ওষুধ প্রয়োগ করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য আসে জাপানি প্রতিষ্ঠান ফুজিফিল্ম তোয়ামা কেমিক্যালের তৈরি ইনফ্লুয়েঞ্জার ওষুধ ‘অ্যাভিগান’ থেকে। পরবর্তী সময় চীনের বিজ্ঞানবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় বায়োটেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের পরিচালক ঝাং জিনমিনও এক সংবাদ সম্মেলনে করোনার চিকিৎসায় ‘অ্যাভিগান’ খুব নিরাপদ এবং স্পষ্টভাবে কার্যকর বলে দাবি করেন। যদিও ওষুধটির ব্যাপারে এখনো পুরোপুরি সবুজ সংকেত দেয়নি ডব্লিউএইচওসহ অন্য দেশগুলো। এ ছাড়া চীনে করোনা চিকিৎসায় কিউবার তৈরি এইডস, হেপাটাইটিস বি ও সির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘ইন্টারফেরন আলফা টু বি’ ওষুধ ব্যবহারেরও খবর পাওয়া গেছে। এমনকি আক্রান্ত ৬০ হাজার রোগীকে প্রচলিত ওষুধের পাশাপাশি সেবন করানো হয় দারুচিনি, যষ্টিমধুসহ ২০টি ভেষজ উপাদানের স্যুপও। এই ভেষজ ওষুধও বেশ কাজ করেছে বলে দাবি ন্যাশনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব ট্র্যাডিশনাল চায়নিজ মেডিসিন।

এ রোগের চিকিৎসায় ইউরোপের দেশগুলোতে ব্যবহৃত হয় এইডসের ওষুধ ‘লোপিনাভির ও রিটোনাভির’ এর সংমিশ্রণ। যা এইচআইভির দ্বিতীয় সারির ওষুধ বলে বিবেচিত। এতেও সাফল্য আসায় পরবর্তীকালে তা ভারতেও করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। পরে ভারতে এই রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করে ম্যালেরিয়ার ওষুধ ‘হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন’। যাতে বেশ সাফল্য আসছে দাবি করার পর ওষুধটির দিকে নজর পড়েছে বর্তমানে করোনার প্রকোপে বিপর্যস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রের। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ওষুধ চেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুমকিও দিয়েছেন।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, তারা সম্ভাবনাময় চারটি বিশেষ ওষুধ নিয়ে এখন কাজ করছে। এগুলো হলো ইবোলার ওষুধ রেমডেসিভির, ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক ক্লোরোকুইন, এইচআইভির ওষুধ লোপিনাভির ও রিটোনাভির সংমিশ্রণ এবং লোপিনাভির ও রিটোনাভির প্লাস ইন্টারফেরন বেটার সংমিশ্রণ। যদিও এখনো কোনোটিকেই করোনার নির্দিষ্ট প্রতিষেধক হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা ওষুধগুলোর মধ্যে রেমডেসিভির নিয়ে বড় পরিসরে পাঁচটি ল্যাবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হচ্ছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই দুটি ল্যাবের ফল পাওয়ার কথা রয়েছে। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত