316030

খুব কাছ থেকে ঢাকায় দেখা একজন করোনা রোগী

নিউজ ডেস্ক।। শুরু হয়েছিল সাধারণ ঠাণ্ডা, জ্বর আর কাশি দিয়েই। এভাকেই চলছিল আমার দিন ধরে। নানা রকম টেস্ট করার পর ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন তাঁর ফুসফুসজনিত যে সমস্যা সেটা নাকি অনেকদিনের। অথচ ৪৭ বছর বয়সী হালিমা খাতুনের (সঙ্গত কারণেই তাঁর আসল নাম প্রকাশ করা হলো না) এই ধরনের কোনো সমস্যা নেই। ডাক্তারদের ঔষধ পথ্য অনুযায়ী চিকিৎসাও শুরু হয়। ধীরে ধীরে সুস্থও হয়ে উঠছিলেন। ইনহেলার ব্যবহার করায় শ্বাসকষ্টও কমে আসছিল।

কিন্তু কাশিটা বন্ধ না হওয়ায় ৪ এপ্রিল রাতে তাঁর স্বজনরা শেষমেষ যোগাযোগ করেন আইইডিসিআরের করোনা কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে। সেখানকার হটলাইনের নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় কয়েকবারের চেষ্টাতে। আইইডিসিআরের প্রতিনিধিটি রোগীর যথাযথ নামধাম, ঠিকানাসহ সব তথ্য লিখে রেখে জানান আগামীকাল টেস্ট করার জন্য তাদের লোকজন আসবেন। ৫ এপ্রিল দুপুরে কথামতো দুইজন আসেন টেস্ট করতে। সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বন করা একজন শুধু রোগীর কক্ষে প্রবেশ করেন টেস্টের নমুনা নিতে। দশ মিনিটে সেই কাজ সম্পন্ন করে চলেও যান তাঁরা। শুধু বলে যান টেস্ট তাঁরা ই-মেইল করে জানিয়ে দিবেন। আর দেরি হয় তাহলে নিদিষ্ট ফোন নাম্বারের করলে জানিয়ে দেওয়া হবে।

৬ এপ্রিল রোগী ভালোই ছিলেন। চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী সবকিছু ভালোই চলছিল। খাওয়াদাওয়াতেও রুচি ফিরে এসেছিল। সমস্যা বলতেই ছিল ঐ শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা। এই দিনের দুপুরে আইইডিসিআরের করোনা কন্ট্রোল রুমের এক চিকিৎসক রোগীর স্বামীকে জানান করোনা পরীক্ষায় পজেটিভ এসেছে। তাঁরা রোগীকে নিতে আসছে। রোগীকে যেন প্রস্তুত করা হয়। রোগীর সঙ্গে কিছু দিতে হবে শুধু কাপড় চোপড় ছাড়া। রাত সাড়ে আটটায় একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে উপস্থিত হয় রোগীর পুরনো ঢাকার বাড়িতে। অ্যাম্বুলেন্সে শুধু একজন চালক ছাড়া কেউ ছিলেন না। চালক জানালেন, ‘রোগী আনতে কেউ আগ্রহী হয় না। চালক একাই রোগী নিয়ে যেতে আসে।’

রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ রোগীকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি পৌছে যায় উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারী হাসপাতালে। ঘন্টাখানেক হাসপাতালের বারান্দায় অপেক্ষা করার পর ভেতরের রুমে জায়গা হয় রোগীর। আজ বেলা এগারোটার দিকে কালের কন্ঠের সুযোগ হয় সেই রোগীর সঙ্গে কথা বলবার। রোগী জানান, ‘সকালের দিকে নাস্তা দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক আছে। শুধু শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। সমস্যাটা জানানোর পর কিছু ওষুধ আর অক্সিজেন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ডাক্তারসাহেব চলে আসেন। তিনি আমার সমস্যার কথা জেনে অভয় দেন আর বলেন, কোনো সমস্যা নেই আপনার। আমরা আছি।’

অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের যোগাযোগ করলে জানা যায়, রোগীকে আইসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আজ দুপুরের দিকে স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ এসেছে তাদের পুরো বাড়ি লকডাউন করে দিয়ে গেছে। ফলে এই বাড়ি থেকে যেমন কাউকে বাইরে বের হতে দেওয়া হবে না তেমনি কাউকে ভেতরেও ঢুকতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা জানিয়ে যান, খাবারের প্রয়োজন হলে ফোন দিলেই তাঁরাই সেসবের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু বাড়ির লোকজন বাইরে বের হতে পারবেন না। উৎস: কালের কণ্ঠ।

ad

পাঠকের মতামত