ডাক্তার সাহেবরা সাবধান, ভুল হচ্ছে
জয়নাল হাজারী ॥ বলা হয়েছে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ডাক্তাররাই মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু এই মুক্তিযোদ্ধারা বিভ্রান্ত হয়েছে, পরাস্ত হয়েছে। এই দুরসময়ে ডাক্তারদের ভূমিকা মানুষকে ুব্ধ করেছে। আমাদের দেশের ডাক্তারদের ভূমিকার জন্য করোনা যুদ্ধের আগে থেকেই মানুষ দিশেহারা। কোন রোগী ডাক্তারের কাছে গেলেই অসংখ্য টেস্ট দিয়ে থাকে যা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। এমনকি কোন কোন রোগীকে অন্য রোগের ওষধ লিখে দেয় দিনের পর দিন এই অবস্থা চলেছে। অকারণে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দিয়ে মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে নিজে লাভবান হবার পথটি সুগম করে। এটা আজ আর কারো অজানা নয়। সে কারণেই কয়দিন আগে একজন ফেসবুকে লিখেছে, এখন কেন ডাক্তারদের সুরক্ষা সামগ্রি সরকার দেবে। এতো দিন যেই ওষধ কোম্পানি বা ডায়গনেস্টিক সেন্টারের মালিকরা ডাক্তারদেরকে বাজার করে দিয়েছে কাড়ি কাড়ি নোট গুনে দিয়েছে তারা কোথায়? এখন কেন তারা দেবে না। তাদেরকেই সুরক্ষা সামগ্রি সরবারাহ করতে হবে।
এটা অস্বীকার করা যাবে না যে ইতিমধ্যে সারাবিশ্বেই বেশ কিছু ডাক্তার করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সেই কারণে সব ডাক্তারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা যাবে না। তবে অগনিত ডাক্তার কষাইয়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে এটাই দুঃখজনক। এই করোনার চরম দুর্ভোগের দিনে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক ডাক্তার এখন আর তার নিজের চেম্বারেও যায় না। যে হাসপাতালে চাকরিরত ছিল সেখানেও অনুপস্থিত। এটি সাধারণ মানুষের জন্য এক অমানুবিক হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাক্তারা এখন অন্যরোগের চিকিৎসা দিতে চায় না।
কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নিখিল তলপেটে ব্যথা নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তার পিত্তথলিতে পাথর হয়েছিল। এটা বছরখানিক আগে থেকেই জানা ছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর অপারেশন করে পাথর অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয় হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তাকে জানানো হলো এখন নয় আরো এক মাস পরে অপারেশন করা হবে। জানা গেছে অপনারেশনের জন্য যে চেতনা নাশক ওষধ দেয়া হয় সেই ডাক্তার এখন নেই। এমনকি যিনি অপারেশন করেন তিনিও নিয়োমিত হাসপাতালে আসেন না। তাহলে বুঝাই গেল স্বাস্থ্যখাত ডাক্তারদের কারণে ভেঙ্গে পড়েছে। নিখিলের মত একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ বা নেতার এই অবস্থা হয় তখন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়। এই একটি মাস আল্লাহ যেন নিখিলকে হেপাজত করে। এক মাস পর স্বাভাবিক অবস্থা আসবে এই গ্যারান্টি দেয়া কঠিন। সুতরাং অবস্থা আরো খারাপ হলে এবং নিখিলের চিকিৎসা বিলম্ভিত হলে এবং নিখিলের যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তার জন্য কি ডাক্তারা দায়ী হবে না।
পার্বত্য চট্টগ্রামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অন্যরোগে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারদের দুয়ারে দুয়াওে গিয়ে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। করোনার বাইরেও তো হাজার হাজার মানুষ শত শত রোগে আক্রান্ত হয়, এখন তারা ঐ সকল রোগের চিকিৎসা পাবে না কেন? আজ ভিডিও কনফারেন্সে নেত্রী যথার্থই বলেছেন যারা বর্তমান সময়ে রোগীদের অবহেলা করবে তাদের আর ডাক্তারি করার প্রয়োজন নাই। দরকার হলে আমরা বিদেশ থেকে ডাক্তার আনবো। ডাক্তাররা যে অন্যরোগেরও চিকিৎসা দিচ্ছে না এবং মানুষ নিদারুন সমস্যায় পড়েছে এটা নেত্রী উপলব্ধি করতে পেরেছেন সেজন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে হবে।
ডাক্তারদের দূর্নীতির খবর সরকারের কাছে থাকলেও ইতিপূর্বে সরকার তাদের গাটাতে চায়নি। তবে আজ যখন নেত্রীর মুখেই জনগন তাদের কিছু ভূমিকার কথা সরাসরি উল্লেখ করেছেন তখন জনগন ুব্ধ হয়ে কিছু অঘটন ঘটিয়ে বসে তার জন্য ডাক্তাররাই দায়ী থাকবে। করোনার ওষধ যখন নাই এর চিকিৎসাও নাই কিন্তু অন্য সব রোগের তো চিকিৎসা আছে। করোনার কারণে ঐসকল রোগ চলে যায়নি। সুতরাং ডাক্তার সাহেবরা দয়া করে মানবতার খাতিরে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন এবং আগের মতই অন্যরোগের চিকিৎসা দিন। রোগী দেখলে পালিয়ে যাবেন না। সবাই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যোগ দিন। আপনার যেহেতু বর্তমান যুদ্ধের সৈনিক আপনাদেরকে এই যুদ্ধে জিততেই হবে। জনগন আপনাদের পাশে আছে জননেত্রী আপনাদের পাশে থাকবে। লেখক উপদেষ্টা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সাবেক সংসদ সদস্য। উৎস: হাজারিকা প্রতিদিন।




