293899

‘বাড়ি গেলে মা এখনও আমাকে হাত খরচা দেন’

কলকাতা প্রতিনিধি|| ‘আমি বাড়ি গেলে আমার মা আগের মতোই আমার হাতে ১০০ টাকা ধরিয়ে দেন। আমি মাকে টাকা পাঠাতে পারি না।’ বুধবার প্রকাশ পাওয়া অক্ষয়কুমারের সঙ্গে আলাপচারিতায় এভাবেই নিজের ব্যাক্তি জীবনের কথা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।তিনি বলেন, ‘বিধায়ক হওয়ার আগে আমার কোনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই ছিল না। অবশ্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কখনও প্রয়োজনও হয়নি। তবে আমার অ্যাকাউন্টে জমানো ২১ লক্ষ টাকা আমার এক কর্মীর বাচ্চার পড়াশোনার জন্য দিয়ে দিয়েছিলাম।’

মোদি জানান, ‘অনেক ছোট থেকেই আমি পরিবার থেকে বিছিন্ন হয়ে জীবন চালিয়েছি। তারপর এখন যখন আমি আমার মাকে আমার সঙ্গে সময় কাটাতে বলি, আমার মা নিজের গ্রামেই থাকতে চান। তাছাড়া মাকে খুব বেশি সময় দিতেও পারি না আমি।’ভারতীয় রাজনীতিরতে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রেক্ষাপটে কীভাবে ‘রাগ’নিয়ন্ত্রণ করেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘তিনি সব সময় না রেগে যাওয়ারই চেষ্টা করেন। বললেন, রাগ সবসময় নেতিবাচক শক্তি তৈরি করে। আমি সবসময় কঠোর ও শৃঙ্খলা পরায়ণ থাকার চেষ্টা করি, কিন্ত কখনওই রেগে যাই না। আর এটা আমি অভ্যাস করেছি। আগে যখনই কোনো ঘটনায় আমি রেগে যেতাম, তখন গোটা ঘটনাটা আমি কাগজ-পেন নিয়ে লিখতাম এবং সেটা না পরে ছিঁড়ে ফেলতাম। তাতেও যদি রাগ না কমতো তাহলে আবার লিখতাম ও ছিঁড়ে ফেলতাম। এভাবেই রাগকে নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস করেছি।’

তিনি বলেন, কোনো বৈঠক চলার সময় রেগে যাওয়ার অর্থ নিজে এবং সবাইকে সেই কাজ থেকে বিচ্যুত করা। বাজারের চলতি ওষুধপত্রের থেকেও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাতেই তার সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস বলে জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।বলেন, ‘চিরকালই কম সময়ই ঘুমিয়ে আসছি আমি। এতে যে কাজে কোনো ক্লান্তি আসে, এমনটাও নয়। তাই এ নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। প্রথম জীবনে যে কষ্ট করে জীবন চালিয়েছি, সেখান থেকেই হয়ত এই অভ্যাসটা চলে এসেছে।’তবে কিছুটা মজা করে মোদি বলেন, ‘কাজ থেকে অবসর নেওয়ার পরই কীভাবে বেশি ঘুমানো যায় সেই চেষ্টা করবো।’

বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মোদি।তাকে তিনি আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে বছরে দু তিনটা কুর্তা উপহার দেন এবং বাংলঅদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পাঠান মিষ্টি।এর আগে অবশ্য কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের কথাও অক্ষয় কুমারকে বলেছেন মোদি। তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা বোঝাতে একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন মোদি। তিনি জানান, একদিন সংসদে তারা দু’জন খোশগল্প করছিলেন। কিন্তু বাইরে বেরুনোর পর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই গুলাম নবি জবাব দেন, রাজনীতির সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা সবাই একটা পরিবারের মতো। এটাই তারা মনে করেন।

প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেটা কোনোদিনই ভাবেননি বলে জানিয়েছেন মোদি। ২৪ ঘণ্টায় মাত্র তিন-চার ঘণ্টা ঘুমের কথা বলতে গিয়ে টেনে এনেছেন বারাক ওবামার সঙ্গে তার বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ। ওবামা নাকি দেখা হলেই মোদিকে ঘুম বাড়ানোর পরামর্শ দেন, বলেছেন মোদি।

ad

পাঠকের মতামত