290065

জেলে সিরাজের সঙ্গে বসেই নুসরাত হত্যার পরিকল্পনা

গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন আগে অধ্যক্ষ সিরাজের সঙ্গে কারাগারে গিয়ে দেখা করে নুশরাত জাহান রাফির অভিযুক্ত খুনিরা। শনিবার দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগশেনের (পিবিআই) সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

পিবিআইয়ের ভাষ্য, নুর উদ্দিনসহ কয়েকজন সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করে নির্দেশ নিয়ে আসেন। ৫ এপ্রিল সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার দিকে মাদ্রাসার কাছে থাকা হোস্টেলের পশ্চিম অংশে তাঁর মূল পরিকল্পনা করেন। সেখানেই নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। অধ্যক্ষকে আটক করায় আলেম সমাজকে হেয় করা হয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা। এই হেয় করা ও প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখানের ক্ষোভ থেকে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেন। এ ঘটনায় দুজন মাদ্রাসাছাত্রী ও তিনজন ছাত্র জড়িত। এঁদের একজন মাদ্রাসাসংলগ্ন সাইক্লোন সেন্টারে তিনটি বোরকা ও কেরোসিন শাহদাতকে দিয়েছেন। পরে দুজন ছাত্র ও দুজন ছাত্রী বোরকা পরে সাইক্লোন সেন্টারের টয়লেটে লুকিয়ে ছিলেন। তাঁরাই নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা। ৪ এপ্রিল ওই মাদ্রাসার ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম, নূর উদ্দিন, হাফেজ আবদুল কাদেরসহ কয়েকজন কারাগারে গিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নুশরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেওয়ার আগে অনেক কাহিনী আছে। সবকিছু তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে বলা ঠিক হবে না। তবে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার মুক্তির পক্ষে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীমসহ কয়েকজন জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয় ৪ এপ্রিল। স্মারকলিপি দিয়ে ওই দিনই কারাগারে সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করে। সেখানে গিয়ে রাফিকে হত্যার নির্দেশ নিয়ে আসে।’

ad

পাঠকের মতামত