কেয়ারটেকারের সাথে প্রবাসীর স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক, দেখে ফেলায় সন্তান খুন
পরকীয়া সম্পর্কের কারণে ১১বছরের ছেলে সন্তানকে প্রেমিক দ্বারা শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার দায়ে প্রেমিক যুগলকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই দু’জনকে মৃত্যুদন্ডের রায় প্রদান করেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে প্রেমিক বারিক মিয়া (৩৭) ও তার পরকীয়া প্রেমিকা সিতারা বেগম (৩৯)। এরমধ্যে প্রেমিক মোঃ বারিক মিয়া সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে অন্তরীন থাকলেও হত্যাকান্ডের পর থেকে প্রেমিকা সিতারা বেগম পলাতক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশু সোয়াইবুর রহমানের বাবা রফিকুল ইসলাম প্রবাসে থাকার সুবাদে শিশুর মা সিতারা বেগম তাদের বাড়ির কেয়ারটেকার মোঃ বারিক মিয়ার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলেন। স্বামী বিদেশ যাবার আগে মোঃ বারিক মিয়াকে তাদের পরিবারের দেখাশোনা ও হাটবাজারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন মোঃ রফিকুল ইসলাম। তিনি বিদেশে চলে যাওয়ার পর থেকে কেয়ারটেকার মোঃ বারিক মিয়ার সাথে সিতারা বেগমের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রায় সময়ই বারিক মিয়া সিতারা বেগমের ঘরে রাত্রিযাপন করতেন বলে বিষয়টি এলাকার লোকজনের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে কেয়ারটেকার বারিক মিয়ার সাথে তার মা সিতারা বেগমের অবৈধ্য সম্পর্ক ও প্রণয়ের বিষয়টি নিজ শিশু সন্তান সুয়াইবুর রহমান নিজ চোখে দেখে ঘটনাটি তার প্রবাসী বাবা রফিকুল ইসলামকে জানানোর চেষ্টা করছিল। এমন খবরে তার মা সিতারা বেগম তার প্রেমিক মোঃ বারিক মিয়াকে সন্তানের পরকীয়ার বিষয়টি অবহিত করলে প্রেমিক যুগল মিলে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
এরই অংশ হিসেবে ২০১২ সালের ১৪ই অক্টোবর বিকেলে একই গ্রামের আরেক শিশু আসামী সাবুল মিয়াকে দিয়ে সিতারার সন্তান শিশু সোয়াইবুর রহমানকে ফুসলিয়ে স্থানীয় চিতুলিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত প্রেমিক যুগল মিলে ওই মাদ্রাসার টয়লেটের কাছে গিয়ে শিশু সোয়াইবুর রহমানের মুখে ও গলায় চেপে ধরে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা করে। পরে শিশু সোয়াইবুর রহমানের লাশ গুম করতে ওই টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে রেখে যায় ।
এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই মোঃ হান্নান মিয়া নিজে বাদি হয়ে গত ২০১২ সালের ১৫ই অক্টোবর প্রেমিক যুগল মোঃ বরিক মিয়া , সিতারা বেগম ও সেবুল মিয়া তিনজনকে আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রেমিক বারিক মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও প্রেমিকা সিতারা বেগম ও সেবুল মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘদিন বিচার কার্য পর্যালোচনা শেষে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ্ আলোচিত হত্যাকান্ডের রায়টি প্রদান করেন।




