‘গভীর রাতে পুলিশের সামনেই আমার সব কিছু শেষ করে দিয়েছে’
‘ওরা পুলিশের সামনেই আমার সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। গভীর রাতে ঘরের দরজা ভেঙে ঘুমন্ত সন্তানদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয়। বাধা দিতে গেলে আমাকে মারিপট করে ওরা। এমন হামলার আশঙ্কায় থানায় জিডি করেও কোনো লাভ হয়নি।’কথাগুলো বলছিলেন, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খাকুন্দি গ্রামের সচিন মাস্টারের প্রতিবন্ধী মেয়ে বণানী মণ্ডল।
এ সময় অঝোরে কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, ‘মাস্টার হাফিজুর রহমান, স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল, মাহবুর রহমানের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে আসবাবপত্র ভাঙচুর, ঘরে রক্ষিত ধর্মীয় দেব-দেবীর ছবি ছিঁড়ে ফেলাসহ ভাত-তরকারির গামলা মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। বাড়ির উঠানে থাকা তুলসী গাছ কেটে ফেলে বিচালি ঘরে আগুন দেয়। উপস্থিত পুলিশের কাছে বিচার চাইলে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে সন্ত্রাসীরা।’
শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় সোমবার যশোর আদালতে হাফিজুর রহমান, কামাল গাজী, মাহাবুর, জয়দেব মণ্ডল, কালাম মোড়লসহ অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বণানী মণ্ডল।বিষয়টি আমলে নিয়ে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার রাত ১২টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার খাকুন্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও থানা পুলিশের ভয়ে টুশব্দটি করতে পারেনি ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর পরিবার। মণিরামপুর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে প্রেসক্লাবের গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসে ভয়ঙ্কর ওই রাতের বর্ণনা করেন তিনি।পরে গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিন ঘটনাস্থলে গেলে সত্যতা পাওয়া যায়।
হাফিজুর রহমান জানান, তিনি ওসি সহিদুল ইসলাম, এসআই রবিউল ইসলামসহ থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে নিজের বাড়ি দখলে নিতে রাতের ওই সময়টা বেছে নিয়েছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে ১৫ লাখ টাকা দিয়ে দ্বিতল বসতঘরসহ ৬২ শতক জমি বণানীর বাবা সচিন মাস্টারের কাছ থেকে তিনি কিনেছিলেন। এসব করতে তার অনেক টাকা খরচ হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে বণানী মন্ডলের দাবি, তার স্কুলমাস্টার বাবা অবসরে যাবার পর ব্রেন স্ট্রোক হয়। তিনি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বাবা এলাকায় বিয়ে দিয়ে স্বামীসহ তাকে ওই বাড়িতে রেখে দেয়। কীভাবে জমি কিনেছেন হাফিজুর তা তিনি জানেন না। সেই থেকে তার বাবা নিখোঁজ হওয়ায় হাফিজুর গংদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। হামলার আশঙ্কায় থানায় জিডি করা হলেও তাতে কর্ণপাত করেনি পুলিশ।
জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মশিয়ূর রহমান বলেন, এভাবে রাতে বাড়ি দখল নিয়ে হাফিজুর অন্যায় করেছে।জানতে চাইলে থানার এসআই রবিউল ইসলাম বলেন, টহলে থাকায় স্যারের নির্দেশে ওই এলাকায় থাকলেও ঘটনাস্থলে যায়নি।ওসি সহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার রাতে ওই বাড়িতে আমি যাইনি। সূত্র: যুগান্তর




