তারা ড্রেনের ময়লা পানি অধ্যক্ষের ওপর ছুড়ে মারে
নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল ইসলামের ওপর ড্রেনের ময়লা নিক্ষেপ করে। চেয়ার ছুড়ে মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। শনিবার দুপুরে দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দীর্ঘ ৫ মাস ধরে কলেজে যেতে বাধা দিচ্ছিলো ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন সাধারণ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এরই মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে।কলেজের অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ছাত্রনেতাদের বাধার মুখে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ৫ মাস ধরে তিনি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে ঢাকায় থেকে কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
তিনি জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি কলেজের শহীদ মিনার স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হীরুর উপস্থিতিতে তিনি শহীদদের পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরই মধ্যে স্থানীয় সাংসদ ওনাকে কলেজে এসে কলেজ পরিচালনার নির্দেশ দিলে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কলেজ আসেন।ড. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, দুপুরে ৫-৬ জনের একদল দুর্বৃত্ত মুখোশ ও ক্যাপ পরে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। ওই সময় তারা সঙ্গে আনা এক বালতি ময়লা পানি অধ্যক্ষের ওপর ছুড়ে মারে। ওই সময় চেয়ার ও গ্লাসও অধ্যক্ষের ওপর ছুড়ে মারা হয়। এতে তিনি কপালে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান। পরে দ্রুত হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় কলেজের শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছেন।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, নরসিংদী সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, দুর্বৃত্তরা শুধু অধ্যক্ষকেই অপমান করেননি। অপমান করেছে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের। শিক্ষককে অসম্মানের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।এ ঘটনাকে অপমানজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনার বিচার না হলে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে। তাই দ্রুত এর বিচার করা উচিত।
নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলি আহাম্মেদ বলেন, অধ্যক্ষ নিজের অনিয়িম ও দুর্নীতিকে আড়াল করতে ছাত্রনেতাদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে বর্তমান ও সাবেক ছাত্র নেতারা অধ্যক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজের অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। এরই প্রেক্ষিতে ছাত্র নেতারা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ওনাকে কলেজে ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেন। কিন্তু সেই ঘটনার সঙ্গে আজকের ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
নরসিংদী সদর মডেল থানা ওসি আপারেশন আতাউর রহমান বলেন, অধ্যক্ষের ওপর হামলার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজসহ সব ধরনের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।




