265751

শামীমার দায়ভার বাংলাদেশকে চাপানোর চেষ্টা যুক্তরাজ্যের

নিউজ ডেস্ক।। পূর্ব লন্ডন থেকে দুই বান্ধবীসহ পালিয়ে সিরিয়া গিয়ে জঙ্গি গ্রুপ ইসলামিক স্টেট বা আইএসে যোগ দেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী শামীমা বেগম যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব হারাতে যাচ্ছেন। ব্রিটিশ সরকার বলছে, শামীমা যখন পালিয়ে গিয়েছিলেন তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর। কিন্তু যেহেতু তার বয়স ১৯ হয়েছে, তাই তিনি অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। সে কারণেই শামীমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে। শামীমার পারিবারিক আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জি বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত তাদের হতাশ করেছে এবং তারা আইনি পথে বিষয়টি মোকাবিলার কথা ভাবছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, এরই মধ্যে নাগরিকত্বের বিষয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের চিঠি শামীমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে মেয়েকে জানানোর জন্য। তবে এই আলোচনা শুরুর মধ্যেই কৌশলে শামীমার দায়ভার বাংলাদেশের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা করছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। মেট্রো নিউজ জানায়, সম্প্রতি ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ এক নির্দেশে শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো মানুষ রাষ্ট্রহীন হতে পারে না। ফলে শামীমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হলে তার রাষ্ট্র কোনটি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এর জবাবে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে ক্ষেত্রে শামীমা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। যদিও বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেছেন, তার বাবা-মা বাংলাদেশি হলেও তিনি কখনো এই দেশে আসেননি। তার কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট নেই। তবে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিষয়ক আইন পর্যবেক্ষক লর্ড চার্লির দাবি, শামীমার মা যদি বাংলাদেশি হয়ে থাকেন, তবে আইন অনুসারে শামীমাও বাংলাদেশি। তার এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন ব্রিটিশ মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবী সোয়াইব খান। তিনি বলেন, শামীমা বেগম বড় হয়েছেন যুক্তরাজ্যে এবং এখানেই তিনি উগ্রপন্থায় জড়িয়েছেন।

সুতরাং যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই এর দায়ভার নিতে হবে। মূলত এখন তিনি যুক্তরাজ্যের সমস্যা, বাংলাদেশের নয়। তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বৈধ হলেও তা করা উচিত হবে না। একুশ শতকে এসে নির্বাসনের মতো মধ্যযুগীয় শাস্তিগুলো থাকা মোটেও উচিত নয়। সোয়াইব খান আরও বলেন, ব্রিটিশ সরকারকে অবশ্যই তার জনগণের দায়িত্ব নিতে হবে। যে দায়িত্বগুলো তাদের ওপর বর্তায় তা পূরণ করতে হবে।

যুক্তরাজ্যের ক্ষতি হয় এমন কিছু থেকে শামীমাকে দূরে রাখার একটাই উপায় আছে, তা হলো তাকে এখানে নজরদারিতে রাখা। কথিত খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৫ সালে পূর্ব লন্ডন থেকে দুই বান্ধবীসহ সিরিয়া পালিয়ে যান শামীমা। এর পর সেখানে তিনি এক আইএস জঙ্গিকে বিয়ে করেন। কিন্তু কিছু দিন পরই তার ভুল ভাঙে। চোখের সামনে দেখেন এক বান্ধবীর করুণ মৃত্যু। অন্য বান্ধবীর কোনো খোঁজ নেই। এরই মধ্যেই তার দুটি সন্তান মারাও যায়। ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। গত সপ্তাহে তাকে সিরিয়ার একটি শরণার্থী ক্যাম্পে খুঁজে পান এক সাংবাদিক। সে সময় শামীমা জানান, তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে চান। তবে যুক্তরাজ্য সরকার বলছে, তারা শামীমাকে কোনোভাবেই ফিরতে দেবে না। গত সপ্তাহের শেষ দিকে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন শামীমা।

ad

পাঠকের মতামত