ইউসুফ গারো কিশোরীকে ‘ধর্ষণের’ পর যেভাবে পালিয়েছিলেন
নিউজ ডেস্ক।। রাজধানীর গুলশান থানা এলাকার কালাচাঁদপুরের বৌ-বাজারে এক গারো কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম মো. ইউসুফ। তার বাসায় ওই গারো কিশোরীকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে সে অচেতন হয়েছিল। এমন অবস্থা দেখে আসামি ইউসুফ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর টিকাটুলির র্যাবের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনে র্যাব-৩-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান এসব কথা জানান।
এমরানুল হাসান বলেন, রাজধানীর কাপ্তান বাজার এলাকা থেকে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। গারো কিশোরী ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইউসুফ। গত ২৬ জানুয়ারি ওই কিশোরীকে তার এক আত্মীয় ইউসুফ আলীর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ দেয়। তার মাসিক বেতন দুই হাজার টাকা। গারো কিশোরী ওই দিন থেকেই ইউসুফের বাসায় একই রুমের মেঝেতে থাকতো। গতকাল বুধবার আসামির দ্বিতীয় স্ত্রী খুশি দিব্রা (৪০) সকালে তার নিজের কর্মস্থালে বেরিয়ে যান। এরপর ভিকটিম ওই গারো কিশোরীকে বাসায় একা পেয়ে ধর্ষণ করে আসামি ইউসুফ। কিন্তু ভিকটিমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ওই সময়ে সে খাটের ওপর অচেতন হয়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে ইউসুফ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে ফোনে জানায় যে, ওই কিশোরী অসুস্থ। এ কথা বলে ইউসুফ বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে তার স্ত্রী ওই কিশোরীর আত্মীয়ের মুঠোফোনে জানায় যে, ওই কিশোরী অসুস্থ।
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, সংবাদ পেয়ে কিশোরীর আত্মীয় দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপশম হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ওই কিশোরীর জ্ঞান ফিরলে সে উপস্থিত সকলের সামনে ঘটনাটি কথা খুলে বলেন। এমন সংবাদ পেয়ে র্যাব-৩ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। র্যাব-৩ গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে একটি আভিযানিক দল আজ দুপুরে রাজধানীর কাপ্তান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৩-এর সিও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ইউসুফ বসুন্ধরা জিপি হাউজের আইটি টেকনিশিয়ান (মেকানিক) হিসেবে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে কর্মরত আছে। তার দুই স্ত্রীর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর তিন মেয়েসহ উত্তর বাড্ডা এলাকায় ভাড়া থাকতেন। আরে দ্বিতীয় স্ত্রী গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তিনি প্রায় সমিই প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে থাকতেন। মাঝে মাঝে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে যেতেন। দ্বিতীয় স্ত্রী একা থাকার কারণে ওই গারো কিশোরীকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজে নেওয়া হয়েছিল। গতকাল দ্বিতীয় স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে ওই কিশোরীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেছেন বলে স্বীকার করেন ইউসুফ।




