261658

মৃত্যুশোকে স্তব্ধ গোপালগঞ্জ : দাফন সম্পন্ন যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতার

নিউজ ডেস্ক।। সড়ক দুর্ঘটনায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৫ নেতাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ গোটা গোপালগঞ্জ। গত রবিবার গভীর রাতে খুলনার লবণচোরা এলাকায় প্রাইভেটকার ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা নিহত হন। তাদের মৃত্যুর খবর গোপালগঞ্জে পৌঁছার পর সর্বত্র নেমে আসে শোকের ছায়া। গতকাল ভোরে পাঁচ মরদেহ বাড়িতে পৌঁছলে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্বজনদের আহাজারিতে অবতারণা হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্বজন, প্রতিবেশীরা ছুটে যান নিহতদের বাড়িতে। ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তরুণ এই ৫ নেতাকে দাফন করা হয় নিজ নিজ এলাকার কবরস্থানে।

নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ শহরের সবুজবাগের অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ মিয়ার ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব হাসান বাবু, একই এলাকার মৃত আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে ও গোপালগঞ্জ সদর যুবলীগের সহসভাপতি এসএম সাদিকুল আলম সাদিক, শহরের থানা পাড়ার গাজী মিজানুর রহমান হিটুর ছেলে জেলা ছাত্রলীগের ছাত্র বৃত্তিবিষয়ক সম্পাদক ওয়ালিদ মাহমুদ উৎসব, শহরের কুয়াডাঙ্গা এলাকার রসুলপাড়ার আলমগীর হোসেন মোল্লার ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সাজু আহমেদ এবং চাঁদমারীর ওয়াহিদ গাজীর ছেলে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য অনিমুল ইসলাম গাজী। তাদের মধ্যে সাদিকুল গাড়ি চালাচ্ছিলেন। সাদিক ছাড়া বাকি সবাই গোপালগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী।

গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে নিহতদের মরদেহ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে আনা হয়। এ খবরে ভোর থেকেই হাসপাতাল এলাকায় ভিড় জমান নিহতদের স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বন্ধু, সহপাঠীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। সকাল সাড়ে ৭টার পর একে একে নিহতদের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়। এ সময় স্বজন, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। গতকাল শহরের থানাপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় নিহত গাজী ওয়ালিদ মাহমুদ উৎসবের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় গোটা পরিবার।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বলেন, এই মর্মান্তিক মৃত্যু গোপালগঞ্জবাসীকে মর্মাহত করেছে। আজ যে পাঁচটি ছেলে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, তাদের সামনে সোনালি স্বপ্ন ছিল। তাদের মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগ পাঁচজন ভবিষ্যৎ মেধাবী নেতা হারাল। এ শোক বহন করার শক্তি আমাদের নেই। গোপালগঞ্জে সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ মাহামুদ বাপ্পী বলেন, তাজা পাঁচটি প্রাণ ঝড়েছে। এরা আমাদের স্বজন। তাই শোকে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তাদের মৃত্যুতে এখানে ছাত্র-যুবলীগে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর থানা যুবলীগের সহসভাপতি সাদিকুল আলমের সদ্য কেনা প্রাইভেটকারে খুলনায় বেড়াতে যান পাঁচ বন্ধু। রাত পৌনে ১২টার দিকে খুলনা থেকে গোপালগঞ্জে ফেরার পথে রূপসা ব্রিজের কাছে লবণচরা হরিণটানা এলাকায় সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেট কারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পাঁচ বন্ধু। সাদিকুলই ছিলেন চালকের আসনে।  লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পাঁচ বন্ধুকে বহনকারী প্রাইভেটকারটি খেজুরবাগান অতিক্রম করার সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গাড়ির সামনে এসে পড়ে যান। তাকে বাঁচাতে গিয়ে মোংলা থেকে আসা সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেট কারটির সংঘর্ষ হয়। তিনি আরও জানান, ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যান।

জানাজা ও দাফন : গতকাল বাদ জোহর পাঁচ নেতার জানাজা স্থানীয় শেখ ফজলুল হক মণি স্মৃতি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, প্রধানমন্ত্রী এপিএস ২ ও নিহত উৎসবের চাচা গাজী হাফিজুর রহমান লিকুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সমাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নিহতদের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

গোপালগঞ্জ মার্কাস মহল্লা কবরস্থান, গেটপাড়া করবস্থান, ফকিরকান্দি ও ডুমদিয়া গ্রামের কবরস্থানে পাঁচজনের লাশ দাফন করা হয়। দাফনকালে উপস্থিত সবাই ছিলেন অশ্রুসজল। শোক প্রকাশ : এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, আইনজীবী সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জেলা উদীচী, বঙ্গববন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত