রিজার্ভ চুরি : যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করছে বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক।। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরির ঘটনায় চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করবে বাংলাদেশ। মামলায় ওই চুরির সঙ্গে জড়িত ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) একমাত্র বিবাদী করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবে।
জানা গেছে, আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলার ক্ষেত্রে সব ধরনের সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এ ধরনের ঘটনার পর তিন বছরের মধ্যে মামলা না করলে তার গুরুত্ব কমে যায়। আর এ লক্ষ্যে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে মামলা করতে হবে। তাই মামলার জন্য আগামীকাল ২৭ জানুয়ারি রাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথ, অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের সাবেক ডিজিএম বর্তমানে মহাব্যবস্থাপক জাকের হোসেন এবং বিএফআইইউর যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। আর বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন। এর পর যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োগ করা দুই আইনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সঙ্গে নিয়ে মামলা করবেন তারা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র আরও জানায়, মামলার পর প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের প্রতিনিধি দল ফিলিপাইনে যাবে। তাই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ককে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে না। যদিও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আইনজীবীরা বলছেন, ভুয়া পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে এত বড় পরিশোধের জন্য নিউইয়র্কের ব্যাংকের যে একেবারে দায় নেই, তা নয়। তবে বাংলাদেশের মতো তারাও ঘটনার শিকার। এ ছাড়া ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ককে বিবাদী করা হলে স্বাভাবিকভাবে তাদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। আবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে জয়ী হওয়াটাও কঠিন। ফলে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে মামলার কথা ভাবা হচ্ছে না।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে নেয় হ্যাকাররা। এর মধ্যে শ্রীলংকায় যাওয়া দুই কোটি ডলার বিতরণ হওয়ার আগেই ফেরত পায় বাংলাদেশ। আর ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেশটির আদালতের নির্দেশে প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত আসে। এর পর থেকে পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখন বাকি ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার জন্য মামলা করা হচ্ছে। এসব অর্থের মধ্যে ১৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়া বাকি অর্থের খোঁজ পাওয়া গেছে, যার বড় অংশই দেশটির আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ হয়ে আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের আদালত এরইমধ্যে আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে সম্প্রতি ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদ- ও ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। এই সাজার মধ্য দিয়ে অর্থ পাচারের ঘটনায় মায়া আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত হলেন। এর আগেও ফিলিপাইনের বিভিন্ন আদালতে আরসিবিসির দায়ের বিষয়টি উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর এক তদন্তেও উঠে আসে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা। চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারও যে সম্পৃক্ততা নেই, সেটিও পরিষ্কার হয়। এসব কারণে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা করে অর্থ ফেরত পাওয়া সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




