সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বহুল আলোচিত তোফা-তহুরা
নিউজ ডেস্ক।। বহুল আলোচিত কোমরে জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেয়া ২৭ মাস বয়সী অসুস্থ তোফা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসাগ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বুধবার বিকালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রামজীবন ইউনিয়নের কাঁশদহ গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে। দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে রংপুর থেকে সিএনজি অটোবাইকযোগে সরাসরি বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তোফাকে। আকস্মিকভাবে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও কাশি শুরু হলে তোফাকে গত ২ জানুয়ারি রাতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি শনিবার সকালে তাকে ভর্তি করা হয় গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে।
পরে হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওইদিন রাতেই তোফাকে পাঠানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে শিশু বিভাগের ১নং ইউনিটে তাকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিকাশ মজুমদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিল তোফা। মা শাহিদা বেগম জানান, তোফা পুরোপুরি সুস্থ হওয়ায় ডাক্তার তাকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। ছাড়পত্র দেয়ার সময় ৭ দিনের ওষুধ লিখে দিয়েছেন চিকিৎসক। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার শাহানুর ইসলাম তোফা-তহুরাকে নিয়ে ফলোআপ চেকআপ করার জন্য আগামী ১ মাসের মধ্যে ঢাকায় যেতে বলেছেন। প্রচণ্ড শীতের কারণে তোফা ডাইরিয়া এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কোমরে জোড়া লাগানো অবস্থায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে নানার বাড়িতে তোফা ও তহুরার জন্ম হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাদেরকে ওই বছর ৭ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ১৬ অক্টোবর তাদের প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট তাদের আলাদা করার জন্য করা হয় দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার। দেশে প্রথম ‘পাইগোপেগাস’ শিশুকে আলাদা করার ঘটনায় ‘তোফা-তহুরা’ই প্রথম। পরে সুস্থ হলে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় ফেরে তোফা-তহুরা। আবারও তহুরা অসুস্থ হলে ২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর তহুরাকে ঢাকায় নেয়া হয়। সরকারি সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েক দফায় দীর্ঘ চিকিৎসার পর তোফা-তহুরা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর দুই যমজ বোনকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।




