242616

বিদায়ী বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ৫ আলোচিত ঘটনা

স্পোর্টস ডেস্ক: দেখতে দেখতে আরো একটি বছর কালের গহব্বরে বিলিন হচ্ছে। বিদায় নিচ্ছে ২০১৮। আগমন ঘটছে নতুন বছর ২০১৯ সালের। নতুন সূযোর্দয়ের আগে অস্তমিত হওয়ার বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঘটেছে বেশ কিছু আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা। যুগান্তর অনলাইন পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-সাকিবের মাঠ ছাড়ার হুমকি: বিদায়ী বছরের শুরুতে বাংলাদেশ-ভারতকে নিয়ে তিনজাতির নিদাহাস ট্রফি আয়োজন করে শ্রীলঙ্কা। অঘোষিত সেমিফাইনালে লঙ্কানদের বিপক্ষে টার্নিং পয়েন্টে আম্পায়ারের বাজে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছাড়ার হুমকি দেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এ টুর্নামেন্টের সেই ম্যাচে স্বাগতিকদের দেয়া ১৬০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২ রান। সেই ওভারে উদানার দুটি বল স্ট্রাইক ব্যাটসম্যানের কাঁধের ওপর দিয়ে গেলেও নো-বল ডাকেননি আম্পায়ার। এমনকি বোলারকে বাড়তি বাউন্সারের জন্য সতর্কও করেননি। এতে ভীষণ চটে যান ডাগআউটে থাকা সাকিব। আম্পায়ারদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান ক্রিজে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাতে কর্ণপাত না করায় রূদ্রমূর্তি ধারণ করেন অধিনায়ক। তাকে থামাতে ছুটে আসেন চতুর্থ আম্পায়ার। তবুও শান্ত হননি তিনি। ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়ে দুই ব্যাটসম্যানকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। এতে কিছু সময় খেলা বন্ধ থাকে। এক পর্যায়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। অবশ্য পরে খেলা গড়ায়। শেষ পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ ফিনিশিং টাচে টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এবং শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে জয় পায় টিম বাংলাদেশ।

সাব্বির রহমানের নিষেধাজ্ঞা: ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়ে যাচ্ছিলেন সাব্বির রহমান। নারীঘটিত ব্যাপার তো ছিলই, পাশাপাশি ক্রিকেট মাঠে সমর্থককে মারপিটও করেন তিনি। এর জেরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ছয় মাস নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানও গুনতে হয় তাকে। তবুও শোধরাননি এ হার্ডহিটার। গেল আগস্টে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক সমর্থককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। এতেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এক কথা ছিল, উপরন্ত তাকে হুমকিও দেন সাব্বির। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি কমিটি ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছয মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট।

মোসাদ্দেক হোসেনের নারী কেলেঙ্কারি: মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের জন্য ২০১৮ সাল এক বিভীষিকার নাম। গেল আগস্টে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগ করেন খোদ স্ত্রী সামিয়া শারমিন। নারী নির্যাতন মামলাও করেন তিনি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার সময়ই সামিয়ার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন মোসাদ্দেক। পরে সুযোগ পান জাতীয় দলে। এরপর যতই যশ-খ্যাতি বেড়েছে, ততই নির্যাতন বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন সামিয়া।পরে বিসিবির দারস্থ হন মোসাদ্দেক। তবে বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় নাক গলায়নি বোর্ড। শুধু সতর্ক করেই তাকে ছেড়ে দেয়। কারণ, সামিয়া তার আপন খালাতো বোন। এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে মামলাটি। তবে এরপর পর জাতীয় দলের দুয়ার খোলেনি এ তরুণের।

তামিম ইকবালের এক হাতে ব্যাটিং: ক্রিকেটপ্রেমীদের স্মৃতিতে বিষয়টি গেঁথে থাকবে অনেকদিন। এশিয়ায় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়েন তামিম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচে শুরুতেই সুরঙ্গা লাকমলের করা শর্ট বল বাঁহাতের কব্জিতে লাগে তার। আঙুল ভেঙে যাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরে বাংলাদেশকে একাই টেনে নিয়ে যান মুশফিকুর রহিম। কিন্তু শেষদিকে তাকে সঙ্গ দেয়ার কেউ ছিল না। অবশেষে পর্যন্ত ভাঙা হাত নিয়েই মাঠে নেমে পড়েন ড্যাশিং ওপেনার। তার অদম্য সাহসিকতায় যেন মুশির মধ্যে আরো প্রাণ সঞ্চারিত হয়। তার ব্যাট হয়ে ওঠে আরো ক্ষুরধার। তাতে শেষদিকে আরও ৩২ রান যোগ হয়। শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে শুভসূচনা করে টাইগাররা।

বাংলাদেশি আম্পায়ারের বিতর্কিত নো-বল: সদ্যসমাপ্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আরেকটি কলঙ্কের কালিমা লেগে যায়। আম্পায়ারিং বিতর্কে জড়ান বাংলাদেশি আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। যা নিয়ে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে হৈচৈ পড়ে যায়। প্রশ্নবিদ্ধ হয় আইসিসির রিভিউ সিস্টেম। তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে উইন্ডিজের দেয়া ১৯০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ক্যারিবীয় পেসাপর ওশানে থমাসের দুটি বল নো ডাকেন আম্পায়ার তানভির আহমেদ। যার একটি বলে আউট হন ব্যাট হাতে আগুন ঝরানো লিটন কুমার দাস। কিন্তু নো সৌজন্যে বেঁচে যান তিনি। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, দুটি বলই বৈধ ছিল।ভুল সিদ্ধান্তে রাগান্বিত হয়ে তানভিরের দিকে তেড়ে এসে নো বলের সিদ্ধান্ত রিভিউ করার ভঙ্গি করেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। আম্পায়ারদের সঙ্গে বাগযুদ্ধে লিপ্ত হন তিনি। এতে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। পরে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। তবে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দ্বীপসমূহের দলটি।

ad

পাঠকের মতামত