সৌম্য সরকার মাশরাফি-সাকিবের যে মন্ত্রে মুগ্ধ
স্পোর্টস ডেস্ক।। মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসানদের বিকল্প কে! দেশের তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে চিন্তার শেষ নেই ভক্ত আর বোদ্ধাদের। দলে আসা তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান ও লিটন কুমার দাসকে নিয়ে। ধারাবাহিকভাবে কেউই যেন নিজেদের প্রমাণ করতে পারছেন না। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে দলে পাঁচ তারকা সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছে কিছু শিখছে না তারা! নাকি তাদের অনুসরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সৌম্য অবশ্য মানতে নারাজ যে সিনিয়রদের কাছে থেকে তারা কিছু শিখছে না। বিশেষ করে দুই ফরমেটের দুই অধিনায়কের নেতৃত্বগুণ ও নানা কৌশল ভালোভাবে অনুসরণ করেন তিনি। বেশ কিছুদিন থেকে ফর্মের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। অবশেষে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক সব জায়গাতেই ক্রিকেটের তিন ফরমেটে আবারো ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন এই তরুণ তারকা ক্রিকেটার। জাতীয় দলে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকলেও তার ব্যাট হেসেছে। তবে এখনো ফিরে পাননি ধারাবাহিকতা।
নতুন বছরে সেটি ফিরে পেতে বেশ মনোযোগী হবেন বলেই লক্ষ্য স্থির করেছেন। ব্যস্ত ক্রিকেট সূচি শেষ করে বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরাতে পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন ছুটিতে। বিপিএল দিয়ে ফিরবেন নিজের সেই লক্ষ্যে। সেই কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: ক্রিকেটের ব্যস্ত সময় শেষ, ছুটি কীভাবে কাটাচ্ছেন?
সৌম্য: এইতো গ্রামের বাসাতে এসেছি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবো। আপাতত ক্রিকেট নিয়ে ভাবছি না। পরিবারকে সময় দিতে চাই।
প্রশ্ন: দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর রানে ফিরেছেন, বিষয়টা কতটা স্বস্তির?
সৌম্য: স্বস্তিরতো অবশ্যই। তবে এখনো অনেক পথ বাকি আছে। আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। সামনে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ। একজন ক্রিকেটার হিসেবে দলের জন্য আমার যে দায়িত্ব সেগুলো পালন করতে হবে। যেন রানে থাকতে পারি সেই কাজগুলোও করতে হবে। তবে ভালো লাগছে যে আগের চেয়ে মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় আছি।
প্রশ্ন: তিন নম্বর পজিশনে খেলতে পারা কতটা কাজে এসেছে?
সৌম্য: অবশ্য ব্যাটিং পজিশন একটা বড় বিষয়। তিনে যে আমি নিয়মিত খেলতে পেরেছি তাও নয়। তবে এখনো আমার সামনে অনেক সময়। তাই আমি পজিশন নিয়ে খুব একটা ভাবতে চাই না। আমার কাজ যেকোনো জায়গাতে দলের জন্য রান করা। তাই যেখানেই সুযোগ পাই না কেন চেষ্টা করবো নিজের সেরাটাই দিতে।
প্রশ্ন: আপনি খারাপ সময় থেকে নিজেকে বের করে আনতে কী করেছেন?
সৌম্য: আমরা তো মানুষ, দেখা যায় অনেক চাইলেও ভালো হচ্ছে না। ভালো জায়গাতে এসে আউট হয়ে যাচ্ছি, বড় স্কোর করতে পারছিলাম না। আমি মূলত মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। শেষ পর্যন্ত সেটি পেরেছি। এখন আমি মনে করি আগের তুলনায় মানসিকভাবে আরো শক্ত আছি।
প্রশ্ন: সামনে নিউজিল্যান্ড সিরিজ, দেশের বাইরে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে কতটা প্রস্তুত?
সৌম্য: নিউজিল্যান্ড সিরিজের এখনো অনেক সময় আছে। তার আগে আমাদের দেশের মাটিতে বিপিএল। নতুন বছরের শুরুতেই বিপিএল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাব। আপাতত সেটি নিয়ে ভাবছি।
প্রশ্ন: বিপিএলে নিজের কোনো লক্ষ্য স্থির করেছেন?
সৌম্য: এখনো সেই ভাবে লক্ষ্য স্থির করিনি। তবে আমি ব্যাটসম্যান, আপনি জানেন বিপিএলে সুযোগ থাকে নিজেকে আরো এক ধাপ এগিয়ে প্রমাণ করার। সেই চেষ্টাই থাকবে। সুযোগ পেলে সেরা ব্যাটিংটাই করতে চাই।
প্রশ্ন: অনেক দিন দলের সঙ্গে আছেন, বলতে পারবেন টি-টোয়েন্টিতে কেন বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে?
সৌম্য: আমি বলবো না যে আমাদের ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং খারাপ। তবে এই তিন বিভাগে অনেক উন্নতি করার জায়গা আছে। আমাদের পিছিয়ে থাকার কারণ আমি ভিন্ন মনে করি। সেটি হলো অভিজ্ঞতা। আমরা দেশে হোক আর বিদেশে দীর্ঘদিন পর পর খেলি। ভারত বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলেন ওরা কিন্তু অনেক ম্যাচ খেলে। আমরাও যত ম্যাচ খেলবো ততই উন্নতি হবে। অপনারাই দেখেন এই বছর কিন্তু আমাদের অনেক ম্যাচ ছিল। একটা খারাপ করলে আরেকটাতে পুশিয়ে নিয়েছি। একটা সিরিজ খারাপ হয়েছে পরেরটা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এর কারণ বেশি খেলেছি, তাই বুঝেছি যে কি করতে হবে। আমি মনে করি একদিন আমরাও অনেক ভালো খেলবো টি-টোয়েন্টিতে।
প্রশ্ন: অভিযোগ আছে তরুণরা অভিজ্ঞদের অনুসরণ করে না সেটি কতটা সত্যি?
সৌম্য: মোটেও না, আমরা অবশ্যই আমাদের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ফলো করি। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখি।
প্রশ্ন: তাহলে মাশরাফি ও সাকিব দুই অধিনায়কের কাছ থেকে আপনার পাওয়া শিক্ষা কি?
সৌম্য: দু’জনের নেতৃত্ব অসাধারণ। তবে দু’জনের ধরনে অনেক পার্থক্য আছে। যেমন সাকিব ভাই যেকোনো মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে সাহসী তিনি। দেখবেন আক্রমণাত্মক খেলাই তার ধর্ম। এই জন্য ক্ষতি হলেও তিনি সাহস হারান না। কিন্তু মাশরাফি ভাই অনেক গোছানো। অনেক শৃঙ্খলার মধ্যেই থাকেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেন অনেক কিছু চিন্তা করে, সব কিছু দেখে। আমি সাকিব ভাইয়ের কাছে সাহস করে কীভাবে খেলতে হয় সেটি শিখেছি। আর মাশরাফি ভাইয়ের কাছে শৃঙ্খলা।
প্রশ্ন: মাশরাফি রাজনীতিতে নেমে গেছেন, আর সাকিব অপেক্ষায়। দু’জনের এই ভূমিকাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
সৌম্য: দেখেন রাজনীতি একেবারেই যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। মাশরাফি ভাই তার নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানে গেছেন। এতে করে আমার বা আমাদের কিছু বলার নেই। বলতেও চাচ্ছি না। উৎস: মানবজমিন




