242877

নরসিংদী-৩ আসনে চলছে নৌকা-সিংহের লড়াই, বিপাকে বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের নির্বাচনী প্রচারণা। জেলার ৫টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্বাচনী আমেজ শিবপুর আসনে। গনসংযোগ আর প্রচারনায় সরব প্রার্থীরা। শেষ মুহূর্তে নানা সমীকরণ নিয়ে হিসাব কসছেন ভোটাররা।বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত হেভিওয়েট নেতা আবদুল মান্নান ভূইয়ার আসন খ্যাত নরসিংদী-৩ এবার নৌকা-সিংহের লড়াই হবে বলে ধারানা করছেন ভোটারা। এদিকে বুধবার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ধানের শীষের প্রার্থী মঞ্জুর এলাহীর প্রার্থীতা স্থগিতাদেশের ফলে শিবপুরের নির্বাচনে ভোটের হিসাবে নতুন মেরুকর সৃষ্টি হয়েছে।৯টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভা নিয়ে নরসিংদী-৩ আসন। আসনটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৩২ জন।

এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক এমপি জহিরুল হক মোহন। ধানের শীষে হয়ে লড়ছেন সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর এলাহী। সিংহ প্রতীক নিয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বর্তমান সাংসদ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।নরসিংদী জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪ টিতে নিবাবাচনী আমেজ তেমন না থাকলেও শিবপুরে জমজমাট ভোটের মাঠ। জেলার অন্য আসনগুলোতে নৌকা আর ধানের শীষ প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সীমাবদ্ধ থাকলেও শিবপুর আসনটিতে চলছে ভিন্ন ধারা। এই আসনে সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান এমপি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা নৌকার মাঝি জহিরুল হক মোহনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।

জহিরুল হক মোহন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব প্রয়াত হেভিওয়েট নেতা মান্নান ভূইয়াকে পরাজিত করে এমপি হয়ে চমক দেখিয়ে ছিলেন। দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। আর তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাঁস মার্কা নিয়ে এমপি হন সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ‘সিংহ’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের একটি অংশের দাবি, সাংসদ হওয়ার পর জেলা-উপজেলাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগে নিজের ভীত গড়ার চেষ্টা চলিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে মনোনয়ন দৌড়ে এমপি সিরাজুল ইসলামকে পিছনে ফেলে মনোনয়ন বাগিয়ে আনেন সাবেক সাংসদ জহিরুল হক ভূ্ইয়া মোহন।

এদিকে গত ২০ ডিসেম্বর শিবপুর আসনের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী জহিরুল হক ভূইয়া মোহন বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুর এলাহীর প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার হাইকোর্টের ৯ নং বেঞ্চের বিচারক জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের বেঞ্চ উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক শেষে মঞ্জুর এলাহীল প্রার্থীতা স্থগিতাদেশ করেন। বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যন হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত ছিলেন। তফসিল ঘোষণার পর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে নরসিংদী-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন লাভ করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সামসুল আলম ভূইয়া রাখিল বলছেন, বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের কেউ নন। তিনি জনবিচ্ছিন্ন সাংসদ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়েই মূলত তিনি ব্যস্ত থাকেন। তিনি শিবপুরের জনগনের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সাংসদ জহিরুল হক ভূঞা মোহন এর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত আছে। তাই নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।জহিরুল হক ভূঞা মোহন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বার বার হুঁশিয়ারির পরেও স্বতন্ত্র এমপি সিরাজ মোল্লা নৌকার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তাহলে কিভাবে তনি নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক দাবি করেন?

বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুর এলাহী বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে আমাকে নির্বাচন থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমার প্রচারণায় হামলা চালানো হচ্ছে। আমার নেতাকর্মীকে মামলা দিয়ে জেলে দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড বলতেকোন শব্দ শিবপুরে নেই।এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সাংসদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তৃণমূলের জনগণ, খেটে খাওয়া মানুষ আমার ভরসা। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও আমার সঙ্গে আছে। কারন আমি এমপি থাকাকালীন কারও কোন ক্ষতি করি নাই। আমি যে পরিমাণ উন্নয়ন কাজ করেছি আশা করি জনগণ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমার জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

ad

পাঠকের মতামত