৭ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, অভিযোগ ঐক্যফ্রন্টের
তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রায় ৭ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে জোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যে আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।লিখিত বক্তব্য মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের প্রায় ৭ হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গায়েবি মামলায় ২১ ডিসেম্বর সারাদেশে ৬৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের সিএসএফের দুজন সদস্য রয়েছেন।
২২ ডিসেম্বর বিএনপির বরগুনা জেলা সভাপতিসহ ঐক্যফ্রন্টের ৫ নেতা-কর্মীকে, সিলেট বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন সাতক্ষীরায় ৮৬ জন, ঝিনাইদহে ৭৬, মাদারীপুরে ২৩ জন, মেহেরপুরে ১৫ জন, খুলনায় ৪১ জন, জামালপুরে ৩৯ জন, গাইবান্ধায় ৩৬ জন, পঞ্চগড়ে ২৩ জনকে, ২৩ ডিসেম্বর সাতক্ষীরায় ৮৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪৮, গাইবান্ধায় ১৯ জন, মুন্সিগঞ্জে ২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।তিনি বলেন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এ দেশের মালিক জনগণকে প্রজা বানিয়ে তাদের ঘরে কৃষি, বিদ্যুৎসহ ইত্যাদি শেখ হাসিনার সরকার ব্যবস্থা করেছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণরূপে সংবিধানের মূল ভিত্তির উপর সরাসরি আঘাত। দেশে তবে কি রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে?
মান্না বলেন, নির্বাচন কমিশন কতটা পক্ষপাতদুষ্ট, তার অকাট্য প্রমাণ নৌকা মার্কার প্রার্থী চিত্রনায়ক ফারুক ঋণখেলাপী হওয়ার পরও এখনো কীভাবে নির্বাচনের মাঠে টিকে আছেন? নির্বাচন কমিশন ও আদালত এক্ষেত্রে নির্বিকার। অথচ ফারুক নিজেই বলেছেন, তার ৩৬ কোটি টাকার লোন রিসিডিউলিং আবেদন কেন গ্রহণ করা হয়নি, তা তিনি জানেন না। তাহলে তিনি বৈধ প্রার্থী থাকেন কী করে। ক্রিকেটার মাশরাফি বিসিবির বেতনভুক্ত, অথচ তিনিও বৈধ প্রার্থী হিসেবে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন। অসংখ্য দণ্ডিত ও ঋণখেলাপি নৌকা মার্কার প্রার্থী নির্বাচনের মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও, যত দোষ নন্দঘোষের মতো একই কারণে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীদের নির্বাচন করতে দেওয়া হচ্ছে না। আদালতের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী-শূন্য আসনগুলোয় পুন:তফসিলের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন উদাসীন। একতরফাভাবে এর সুফল নিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।
তিনি বলেন, আশার কথা, সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা পালনকারী আমাদের গর্ব সেনাবাহিনী বিশ্বব্যাপী শান্তি মিশনে কৃতিত্বের সঙ্গে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশে নিরাপদ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে জাতি তাদের কাছে সে ভূমিকাই প্রত্যাশা করে। দেশব্যাপী সে পরিবেশ সৃষ্টির কঠিন দায়িত্ব সেনাবাহিনীর উপর ন্যস্ত। দেশে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে নীলনকশা চলছে। সেটা গণতন্ত্রে ব্শ্বিাসী ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আর এটা হবে আত্মঘাতী। এমনটা হলে দেশ ও জাতি চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এই মুহূর্তে দেশবাসীর পাশে দাঁড়াবে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী।মান্না বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা ও রহস্যজনক ভূমিকার কারণে মাঠে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে না। বরং নিরাপদ ভোটদানের পরিবেশ দিনকে দিন আরো ঘোলাটে হচ্ছে। এ শঙ্কা সৃষ্টির জন্য সরকারী দল, পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সমভাবে দায়ী। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির বদলে এমন অরাজক, নৈরাজ্যকর ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে একতরফা নির্বাচন করার দুরভসন্ধি কাজ করছে বলে মনে করা যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একদিকে নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে না। অন্যদিকে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের আসতে কৌশলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশী পর্যবেক্ষকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে করা হচ্ছে রহস্যজনক আচরণ। যেকারণে পর্যবেক্ষক নিয়োগ ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বলেন, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নাগরিক সমাজের বেশকিছু সংগঠনকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ ভোট অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সহায়তা জোগায়।’ ইউরোপ-আমেরিকার পক্ষে বিদেশি এক সংস্থার ৩২ জনের জন্য নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এই ৩২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য সময়মতো ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। এতে ওই সংস্থার সকলেই সময়মতো ভোট পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে আসতে পারবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। রহস্যজনকভাবে এসব জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।নির্বাচনের আগে দেশি–বিদেশি সম্ভাব্য পর্যবেক্ষকদের জন্য সরকার কর্তৃক সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা অনতিবিলম্বে দূর করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান মান্না।




