এগিয়ে নৌকা, পিছিয়ে ধানের শীষ
একাদশ জাতীয় নির্বাচনের বাকি মাত্র ১৩ দিন। ভোট চাইতে ইতিমধ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে সড়কে সড়কে ঘুরছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীদের অধিকাংশই সরকারি দলের। বিরোধী দলগুলো এখনও মাঠ গরম করতে পারেনি।ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সর্বত্র নৌকা প্রতীকের পোস্টার। প্রার্থীদের কেউ কেউ বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস বসিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। কেউ আবার অনলাইনে নিজের নামে পেইজ খুলে উন্নয়ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু ধানের শীষের কোন প্রার্থীকে মাঠে নিয়মিত দেখা যায় না।ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামকে নির্বাচনী প্রচারণায় কিছুদিন দেখা গেলেও এখন আর দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু এ আসনে শুধু নৌকা মার্কার হাওয়া বইছে। উন্নয়নের বার্তা নিয়ে প্রচার প্রচারণায় নেমেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, সেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নৌকা প্রার্থী রমেশ সেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘জনগণ এলাকার উন্নয়ন দেখেই নৌকাকে ভোট দেবে। বিগত ১০ বছরে এ আসনে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তা সাধারণ মানুষ দেখেছে। তাই এ ধারা অব্যাহত রাখতে আবারও সাধারণ ভোটার নৌকায় ভোট দেবে।’ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই আসনে বর্তমান সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। সে ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আবারো আমাদের সাথে থাকবে।’বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রচারণা করতে গেলে যারাই হামলা করে, আবার তারাই মামলা করে। আর পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করার জন্য অপেক্ষায় বসে থাকে। নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় পরিচালিত। তাই সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আমরা। তবুও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য ভোটে এসেছি, শেষ পর্যন্ত থাকবো। মানুষ ভোট দিতে পারলেই স্বৈরাচারী সরকারের পতন অনিবার্য।’
অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, তাদেরকে পোস্টার লাগাতে, গণসংযোগ করতে বাধা প্রদান করছে। প্রার্থীদের গাড়ি বহরে হামলা করে সাধারণ ভোটারদের ভিতরে আতংক সৃষ্টি করছে আওয়ামী লীগ। তাই সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।সাধারণ ভোটারদের মতে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই প্রার্থী জনপ্রিয়। ২০১৪ সালের মত নির্বাচন না হলে নির্বাচনে কে জিতবে আর কে হারবে সেটা এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। সুষ্ঠ পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আমরা ভোট দিতে চাই।ঠাকুরগাঁও জেলা রিটার্নিং অফিসার ড. কামরুজ্জামান সেলিম জানান, ইসির নির্দেশনায় আমরা সুষ্ঠ নির্বাচনের পরিবশে তৈরি করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আশা রাখি সবার অংশগ্রহণে ভোটের পরিবেশ ভাল থাকবে। নির্বাচনে প্রচারণার বাধার অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঠাকুরগাঁও-১ আসন সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২১ হাজার ৬২২ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৯৬ জন, পুরুষ ২ লাখ ১১ হাজার ৫২৬ জন। ভোট কেন্দ্র ১৭৫টি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-১৯৮৪ সালে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলাকে ভেঙে তিনটি জেলা করা হয়। এর মধ্যে পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের মাঝখানে ঠাকুরগাঁও জেলা। এ জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬শ বর্গমাইল। জেলায় মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭৫ ভাগ মুসলমান, হিন্দু শতকরা ২৪ ভাগ এবং খ্রিষ্টান, আদিবাসী ও অন্যান্য জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা এক ভাগ।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান-২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্রসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৬ হাজার ৬শ ৯০ ভোটের ব্যবধানে মির্জা ফখরুলকে পরাজিত করেন। নৌকা পায় ১ লাখ ৭৭ হাজার ১শ ১ ভোট, ধানের শীষ পায় ১ লাখ ২০ হাজার ৪’শ ১১ ভোট। এর আগে ২০০১ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৩৭ হাজার ৯’শ ৬২ ভোটে ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেনকে হারান। ধানের র্শীষ পায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯’শ ১০ ভোট আর নৌকা পায় ৯৬ হাজার ৯’শ ৪৮ ভোট। এককভাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরে আলম চৌধুরী ১৬ হাজার ৬ শ’৪৭ ভোট পান।
১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে খাদেমুল ইসলাম পায় ৬২ হাজার ৭’শ ৯ ভোট। মির্জা ফখরুল ধানের র্শীষ প্রতীক নিয়ে পায় ৫৮ হাজার ৩’শ ৬৯ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৪ হাজার ৩’শ ৪০ ভোট। আলাদা নির্বাচন করে জামায়াতের রফিকুল পান ১৭ হাজার ২’শ ৪২ ভোট। তবে জামায়াতের সঙ্গে একত্রে হিসাব করলে আরো ১৪ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকেন মির্জা ফখরুল।১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম পান ৫৭ হাজার ৫’শ ৩৫ ভোট। মির্জা ফখরুল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৩৬ হাজার ৪’শ ৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ২১ হাজার ১’শ ২৯ ভোট। তবে আলাদা ভাবে নির্বাচন করে জামায়াত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পান ২৬ হাজার ৮’শ ভোট। আর জাতীয় পার্টি প্রার্থী রেওয়ানুল হক ইদু চৌধুরী পান ২১ হাজার ৫০ ভোট।




