প্রচারণায় সাঈদীর ছেলের পাশে নেই পিরোজপুর বিএনপি
পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর সদর-নাজিরপুর-নেছারাবাদ) আসনে প্রার্থী মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদন্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের এই নেতার নির্বাচনী মার্কা ধানের শীষ হলেও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পাশে নেই জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দের পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী শ ম রেজাউল করিম দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিদিনই সভা-সমাবেশ করছেন। নৌকার পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে সড়ক-হাট-বাজার। প্রতিদিন মাইকিং এ ব্যতিব্যস্ত প্রচার কর্মীরা। সেখানে এখনও দেখা মিলছে না শামীম সাঈদীকে। তার পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় কোনো পোস্টার নেই, নেই কোনো মাইকিং।
গত মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর পুলিশ পিরোজপুর শহরের বাইপাস সড়কে সাঈদী ফাউন্ডেশন থেকে অস্ত্র ও বোমাসহ জেলা জামায়াতের অর্থ সম্পাদক সোহরাব হোসেন জুয়েল ও জামায়াত নেতা শওকত আলী ও নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের ভেতর দুজন শামীম সাঈদীর মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী।বোমা ও অস্ত্রসহ জামায়াত কর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী ক্ষুদ্ধ হয়ে শামীম সাঈদীর প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করে দেয় বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া এই আসনের নাজিরপুর উপজেলা বিএনপিসহ উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা মিটিং-মিছিল করে শামীম সাঈদীকে অবাঞ্চিতসহ বয়কটের ঘোষণা দেয়।
এ সম্পর্কে শামীম সাঈদীর ভাই ইন্দুরকানি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুজন শামীম সাঈদীর মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থনকারী। মূলত তাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্য এ মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জিয়াউল হক বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বাইপাস সড়কে সাঈদী ফাউন্ডেশনের মাঠ থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাইক্রোবাসটি থেকে একটি দেশি পাইপগান, ছয়টি বন্দুকের গুলি, ককটেল,পাঁচটি পেট্রল বোমা ও ধারালো অস্ত্র জব্দ করা হয়। তাদের অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘শামীম সাঈদীর তিন কর্মীকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে তারা আমাকে জানিয়েছিল। আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ মামলা ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করছে না।’স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী চেয়েছিল তারা। আর জেলা বিএনপি শামীম সাঈদীকে পিরোজপুর-২ আসন ছেড়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু জামায়াত পিরোজপুর-১ আসনে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। এদিকে দলীয় প্রার্থী না পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বলেন, যেখানে জোটের প্রার্থী যে দলের সেখানে ওই দল প্রচার–প্রচারণা বা সভা-সমাবেশের উদ্যোগ নেবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা তাতে অংশ নেবেন। পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শামীম সাঈদী। তিনি নিজে এখনও প্রচার-প্রচারণা শুরু করেননি। তাহলে বিএনপি মাঠে নামবে কিভাবে?




