কে এই সুমি? যার সাথে নির্বাচন করলে খালেদা জিয়ারও জামানত বাজেয়াপ্ত হবে!
বুধবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন নীলফামারী-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সরকার ফারহানা আক্তার সুমি।তিনি নীলফামারী-১ আসনে দলের প্রার্থিতার বিষয়ে শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘নেত্রী, আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, এই আসনে যদি খালেদা জিয়াও এসে আমার সঙ্গে নির্বাচন করেন তাহলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।’
ওই আসনের বর্তমান এমপি আফতাব উদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে জনবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ এনে সুমি বলেন, তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নৌকার ভরাডুবি হবে।এসময় তার কথা শুনে হাততালি দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বলেন, দেখো দেখো, তাঁর কনফিডেন্স কী রকম?সূত্র জানায়, আবেগাপ্লুত শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সুমির নাম নোট করে রাখার জন্য বলেন।পরে ফারহানা আক্তার সুমি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার এলাকার জনগণ আমার জন্য কাঁদছে। এখান থেকে আমি সরে যাব কেন?সুমি জানান, তাঁর মনে হয়েছে নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কিছু আসনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংগঠনিকভাবে নীলফামারী-১ আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান বেশ পাকাপোক্ত। এ আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য জাফর ইকবাল সিদ্দীকি। এবারও তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী। এছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্যও এই আসন থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। এই দুজন ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে আরও অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।
এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ড. হামিদা বানু শোভা, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হোসেন সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সরকার ফারহানা আক্তার সুমি, সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও সাবেক এমএলএ মরহুম আব্দুর রহমান চৌধুরীর নাতি ব্যারিস্টার ইমরান কবির চৌধুরী জনি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) তছলিম উদ্দিন।
সরেজমিনে জানা যায়- নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন ততই বাড়ছে। বিভিন্ন সভা সমাবেশে প্রকাশ্যেই সরকারদলীয় সাম্ভব্য প্রার্থীদের রেষারেষি বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের আশ্বাসেই সেখানে একাধিক প্রার্থী নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছেন।এদিকে মনোনয়ন চেয়ে মাঠে সক্রিয় আছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সরকার ফারহানা আক্তার সুমি। তিনি এখন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহশিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক।সূত্র: জুমবাংলানিউজ




