কথা রাখেনি বিএনপি!
একাদশ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলেছে বিএনপি। লক্ষ একটাই আওয়ামী লীগকে হটিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া। এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ঐক্যের নেতাদের। ডা. কামাল হোসন সহ ঐক্যের নেতাদের সামনে রেখে লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে বিএনপি।ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আগে বিএনপিকে বিভিন্ন শর্ত দিয়েছিল জোটে আসা নেতারা। গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি ছিল- তারেককে যতদূর সম্ভব আড়ালেই রাখা হবে। কিন্তু সে অঙ্গীকার রাখতে পারেনি বিএনপি। বিএনপি যে বিএনপির মতোই চলবে সেটা তারা বুঝিয়েছে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে স্কাইপের মাধ্যমে তারেক রহমানকে হাজির করে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও একটি দৈনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমরা (ঐক্যফ্রন্ট) আওয়ামী লীগকে সরিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর এজেন্ডা নেইনি। আমরা চাই রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসুক’। তিনি এটাও বলেছেন যে, শুধু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনও তাদের লক্ষ্য নয়। তিনি মনে করেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলই ডানপন্থি রাজনীতি করে। বিএনপি প্রার্থীরা বেশি সংখ্যায় জিতলেও রাজনীতির কোনো গুণগত পরিবর্তন হবে না।
জাফরুল্লাহ মনে করেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী তালিকায় মেধাবী ও ক্লিন ইমেজের অনেক মুখ দেখা যাবে। বড় দল হিসেবে বিএনপি একচেটিয়া সংখ্যা বিচারে বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দেবে- সেটা হবে না।তবে ডা. জাফরুল্লাহ যেভাবে স্পষ্ট করে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের কথা বলেছেন সেভাবেও আর কেউ বলেননি। এমনকি ‘মেধাবী ও ক্লিন’ প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টিও বড় দল হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে একবারও বলা হয়নি। মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেই বোঝা যাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চাওয়া কতটুকু পূরণ হলো। তবে বিএনপি তাদের মতো করেই প্রার্থী বাছাই করছে।
সবচেয়ে বড় লুকোচুরি খেলা চলছে জামায়াতকে নিয়ে। জামায়াতকে ঐক্যে না রাখার কথাও বলা হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট থেকে। অথচ সেই জামায়তের আসন নিয়েই দরকষাকষিতে করছে বিএনপি। জামায়াত এখন নিবন্ধনহীন দল। তাই জামায়াতের নামে বা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ তাদের নেই। জামায়াতকে নির্বাচন করতে হবে হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অথবা বিএনপির প্রার্থী হয়ে। শোনা যাচ্ছে, বিএনপির কাছে জামায়াত ৫০টি আসন দাবি করেছে। বিএনপি তাদের ২০টি আসন দিতে চায়। দরকষাকষিতে হয়তো আরো দুচারটি আসন ছাড়তে পারে বিএনপি।
জামায়াত কমপক্ষে ৩৫টি আসনে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতিতে আছে বলেও গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। প্রশ্ন হলো, বিএনপি ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলোকে কয়টি আসন ছাড়বে আর ২০ দলের শরিকদের কয়টি আসন দেবে? তাহলে জামায়াত প্রভাবিত বিএনপিকে দিয়ে ডা কামাল ও জাফরুল্লাহরা রাজনীতিতে কি গুণগত পরিবর্তন আনবেন বা আনতে পারবেন সেটা কি একটি বড় প্রশ্ন নয়? কি দাঁড়াবে তাহলে ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতির চেহারা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপিকে যেসব শর্ত দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে তার মূল দুটি শর্তেই রাখেনি বিএনপি। যার জন্য প্রায় সময় ঐক্যতে ভাঙনের খবর গণমাধ্যমে দেখা গেছে! বিএনপি যদি ক্ষমতায় যেতে পারে তাহলে ডা কামল সহ ঐক্যের সিনিয়র নেতাদের কতোটুকু মূল্যয়ন করবে সেটাই দেখার বিষয়।সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল




