211718

কাঠগড়ায় জায়েদ খান

চলচ্চিত্রপাড়ার আলোচিত নাম এখন জায়েদ খান। নানা কারণেই আলোচিত তিনি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের পর থেকেই এ আলোচনার শুরু। সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার পর নানা কারণেই হচ্ছেন আলোচিত-সমালোচিত। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা মহলে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। সেসব প্রশ্ন নিয়েই সাপ্তাহিক আয়োজন তারা ঝিলমিলের নতুন বিভাগ কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে তাকে। নিজের সফলতা ও ব্যর্থতার ফিরিস্তি জানিয়েছেন সাক্ষাৎকারে।

অনেকে বলছেন, পিকনিক আর তারকাদের সমিতির অফিসে উপস্থিত হয়ে ছবি তোলার মধ্যেই নাকি চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ?

জায়েদ খান: এমন কথা কারা বলছেন। যারা বলছেন তারা হয়তো সমিতির অফিসে আসেন না। এলে আমাদের কার্যক্রম দেখতে পারতেন। আমরা কী করছি, শিল্পীদের জন্য, সমিতির উন্নয়নে সেটি জানতে পারতেন। দূর থেকে তো অনেক কিছুই বলা যায়। কাছে এলে তাদের ধারণার পরিবর্তন হবে, আমি নিশ্চিত। আমাদের কমিটি যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল সেটি পালন করতে বদ্ধ পরিকর। সে অনুযায়ী আমরা সবাই কাজ করছি।

যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন তার কতটা বাস্তবায়ন করেছেন?

জায়েদ খান: আমাদের প্রতিশ্র“তির মধ্যে অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে একটি কার্যকর সমিতি বানানো। সেটি মনে হয় আমরা পেরেছি। এটা আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছি। সমিতির আগের পরিবেশ আর এখনকার পরিবেশ দেখলেই বুঝতে পারবেন সবাই। এখানে এখন সব সিনিয়র-জুনিয়র শিল্পীরা এসে সময় কাটানোর পরিবেশ পাচ্ছেন। এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও নিয়মিত আসছেন। যা আগে কখনই দেখা যায়নি। সব আর্টিস্টরাই তো বলছেন এমন একটি শিল্পী সমিতিই তারা চাচ্ছিলেন।

সমিতির মূল স্থাপনাগুলো তো আগের কমিটি করে গেছে। আপনারা কেবল টিয়া পাখি, ময়না পাখি, টয়লেট আর রং করেছেন। এতেই নাকি পুরো ক্রেডিট আপনার কমিটি নিয়ে নিচ্ছে?

জায়েদ খান: আমার কমিটি বা আমি কখনই বলিনি আমরা শিল্পী সমিতির স্থাপনাগুলো তৈরি করেছি। সমিতির ফোয়ারা আগের কমিটি করে গেছেন। প্রায় সব কমিটির বেলায়ই তো কিছু না কিছু উন্নয়ন ঘটেছে। আমি বলেছি শিল্পী সমিতিকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছি আমরা। শিল্পীদের আয়েশ করে বসে কথা বলার পরিবেশ তৈরি করেছি।

শিল্পীদের উন্নয়নে কী করেছেন?

জায়েদ খান: আমরা কিন্তু আমাদের সাধ্যের বাইরে যেতে পারব না। তবে যতটুকু করার বা অনেক সময় সামর্থ্যরে বাইরে গিয়েও শিল্পীদের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছি। সমিতির সঙ্গে একটি হাসপাতালের চুক্তি হয়েছে। তারা অনেক কম খরচে সমিতির সদস্যদের সেবা দেবে। এ ছাড়া শিল্পীদের ডিজিটাল পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করেছি। দুস্থ অহসায় শিল্পীদের পাশেও দাঁড়াচ্ছি।

নির্বাচিত হওয়ার পর দুই শতাধিক সদস্যের ভোটাধিকার বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এটা কেন নিলেন?

জায়েদ খান: প্রতিটি সংগঠন বা সমিতি কিন্তু একটা নিয়মের মধ্যে চলে। তাদের আলাদা আলাদা গঠনতন্ত্র রয়েছে। এ সমিতিরও রয়েছে। চলচ্চিত্রের শিল্পীরা এ সমিতির সদস্য হবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু সমিতির সেক্রেটারি পদে দাঁড়ানোর পর দেখলাম এখানে এমন অনেক লোক রয়েছেন যারা শিল্পী নন। কেউ মাছের ব্যবসায়ী, কেউ গাড়ির ড্রাইভার, কেউ পান বিক্রেতা, কেউ অটোমোবাইল মেকার। তারা সদস্য হয়ে বসে আছেন। কবে কোন ছবিতে শুধু বল্লম হাতে দাঁড়িয়ে কয়েক সেকেন্ডের একটা দৃশ্য করেছেন, এ জন্য তাকে শিল্পী সমিতির সদস্যপদ দেয়া হয়েছে। অথচ শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা আছে, সমিতির সদস্য হতে হলে পাঁচটি চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। দায়িত্ব নেয়ার পর দেখলাম এখানে অনেকে এমন রয়েছে যারা কখনও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেনি, তারাও সদস্য। ভাবা যায়! খালি ভোটের সময় তাদের দেখা যায়। টাকার বিনিময়ে এসে ভোট দিয়ে যায়। তাই এমন উদ্যোগ নেয়া। তবে শিল্পীদের যাচাই-বাছাই পর্বে আমাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। যাচাই-বাছাই করেছেন আমাদের সমিতির সম্মানীত উপদেষ্টা ও আমাদের মুরব্বিরা।

যাদের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতায় এসে তাদের ভোটাধিকার বাতিল করেছেন। ভোটের আগে এ দাবি তোলেননি কেন?

জায়েদ খান: শিল্পীদের বাইরে যে এতগুলো মানুষ এখানকার সদস্য এটা চেয়ারে বসার আগে তেমন একটা জানিনি। তবে ভোট চাওয়ার সময় কিছুটা জেনেছি। বিষয়টি আমার কাছে খুব খারাপ লেগেছে। শিল্পী সমিতি শিল্পীদের সংগঠন। এখানে যারা সদস্য তারা সবাই সাধারণ মানুষের কাছে তারকা। সেখানে কেন যারা শিল্পী নন তারা সদস্য হিসেবে থাকবেন। ভোটের আগে তারা শুধু টাকার জন্য ঘুরঘুর করে। আর কোথাও দেখা যায় না। তবে সবাইকেই কিন্তু বাদ দেয়া হচ্ছে না। তালিকার অনেকেই পর্যবেক্ষণেও রয়েছেন।

যৌথ প্রযোজনার ছবির রিরুদ্ধে আন্দোলনে আপনি সোচ্চার ছিলেন। এতে কি শিল্পীদের ক্ষতি হয়েছে না লাভ হয়েছে?

জায়েদ খান: যে নিয়মে যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মিত হচ্ছিল সেটি তো আমাদের সিনেমা শিল্পের জন্য অবশ্যই বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছিল। আমরা যৌথ প্রযোজনার বিরুদ্ধে কখনই দাঁড়াইনি। দাঁড়িয়েছি দেশি চলচ্চিত্রের স্বার্থে। আমাদের চলচ্চিত্র বাঁচলেই তো শিল্পীরা বাঁচবে। এখন যৌথ প্রযোজনার নীতিমালায় পরিবর্তন এসেছে।

এখন তো যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ হচ্ছে না বললেই চলে। সাফটা চুক্তির মাধ্যমে ছবি আসছে। এতে আরও ক্ষতি হচ্ছে। এ নিয়ে কোনো কথা বলছেন না কেন?

জায়েদ খান: সাফটা চুক্তি কিন্তু শুধু চলচ্চিত্র নিয়েই নয়। এটি বিশাল একটি প্রজেক্ট। সরকারের অনেক বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। আপনি আমি চাইলেই এটি মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন আনতে বা নিয়ম এড়িয়ে যেতে পারব না। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাচ্ছি। বেশ কিছু প্রস্তাবনাও দিয়েছি। আশা করি সুফল হবে।

আপনি নাকি ‘এক কয়েদির ডাইরী’ নামে একটি ছবি নির্মাণের কথা বলে স্ট্যান্টবাজি করেছেন?

জায়েদ খান: কথাটি মালেক আফসারী সাহেব বলেছেন। তিনি একজন দক্ষ পরিচালক। আমার কাছে তিনি সম্মানী লোক। আমার প্রযোজনায় ‘অন্তরজ্বালা’ ছবিটি নির্মাণ করেছেন। ছবিটি প্রশংসিত হয়েছে। এরপরই‘ এক কয়েদির ডাইরী’ ছবিটি তাকে দিয়ে বানানোর ঘোষণা দিই। আমি যেহেতু অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করি, তাই ব্যবসার প্রতিও আমার নজর রাখতে হবে। ছবিটি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছি। সময় সুযোগ বুঝেই শুটিং শুরু করব। কারণ এতে আমার টাকা লগ্নি করতে হবে। হুট করেই তো আর শুরু করতে পারি না। শুরুটা হচ্ছে না বলেই তিনি আমাকে স্ট্যান্টবাজি করেছি বলে গণমাধ্যমকে বলেছেন। প

ad

পাঠকের মতামত