209394

যেসব গ্রামে শুধুই নারীরা থাকেন

দুনিয়া ব্যাপীই অসংলগ্ন ঘটনার কোনও ইয়ত্তা নেই। এজন্যই কবি যোগীন্দ্রনাথ সরকার হয়তো তাঁর ‘মজার দেশ’ কবিতায় বলেছিলেন, “এক যে আছে মজার দেশ, সব রকমে ভালো/রাত্তিরেতে বেজায় রোদ, দিনে চাঁদের আলো/মণ্ডা-মিঠাই তেতো সেথা, ওষুধ লাগে ভালো/অন্ধকারটা সাদা দেখায়, সাদা জিনিস কালো!”

মজার এই দুনিয়ায় এমন বহু মজার মজার বিচিত্র ঘটনা আমাদের নজরে আসে। কোনও এক গ্রামে শুধুই নারীর বসবাস তেমনই মজারই ঘটনা। পৃথিবীতে এমন অনেক অঞ্চল আছে যেসব স্থানে শুধুই রমনীদের বাস। এমন তিনটি গ্রামের সঙ্গে পরিচয় হওয়া যাক।

মিশরের তেমনই এক গ্রামের নাম ‘সামাহা’। গ্রামজুড়ে শুধুই নারীদের বাস। অনুমতি নেই কোনো পুরুষ প্রবেশের। তিন শতাধিক নারী বসবাস করেন সেখানে। কেউ কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করতে চাইলে তাকে তৎক্ষণাৎ বের করে দেয়া হয় গ্রাম থেকে। শুনতে অবাক লাগলেও এমন একটি গ্রাম রয়েছে মিসরে।

সামাহা নামের গ্রামটিকে মিশর সরকার বরাদ্দ করেছে বৃদ্ধা, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীদের জন্য। গ্রামটির অবস্থান দক্ষিণ মিসরের আসওয়ান শহর থেকে ১২০ কি.মি দূরে ইদফো নামক ছোট শহরে। গ্রামটির চারপাশে কৃষিভূমি। পশু-পাখি পালন ও চাষাবাদ করে জীবন ধারণ করেন গ্রামের নারীরা।

গ্রামটির ৩০৩টি পরিবারে শুধু নারী ও মেয়ে শিশুর বাস। প্রত্যেক নারীকে একটি করে বাড়ি ও এক খণ্ড করে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের গৃহসামগ্রী ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়। তাদের স্বল্পমেয়াদি ঋণও দেয়া হয় কৃষিকাজের জন্য।

গ্রামের প্রধান তত্ত্বাবধানকারী হামদি আল কাশেফ বলেন, ‘গ্রামের প্রকল্পটি শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। সে সময় কৃষি মন্ত্রণালয় শুধু তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা নারীদের জন্য দুটি গ্রাম বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’


কেনিয়ার উমোজা গ্রাম

‘উমোজা’ নামে ঠিক এমনই আরেকটি গ্রামের খোঁজ মেলে আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায়। কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের ওই গ্রামটিকে বলা হয় নোম্যান্স ল্যান্ড। নোম্যান্স ল্যান্ড বলতে সাধারণত দুদেশের সীমান্তসংলগ্ন এমন এলাকাকে বোঝায়। যেখানে নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে সবারই প্রবেশ নিষেধ। তবে কেনিয়ার ওই গ্রামকে নোম্যান্স ল্যান্ড দ্বারা বোঝানো হয়, এখানে কোনো পুরুষ নেই। শুধুই নারীদের গ্রাম।

প্রায় ৩০ বছর আগে রেবেকা লোলোসোলি নামের এক নারী নারীশাসিত এ গ্রামের গোড়াপত্তন করেন এবং পুরুষদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেন। কেনিয়ার সামবুরু জাতিগোষ্ঠীর সদস্য রেবেকা। তিনি নারীকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নির্যাতন ও লাঞ্ছনা থেকে বাঁচাতে এই গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন।


ব্রাজিলের ‘নোইভা ডো করডেরিয়ো’ গ্রাম

দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের ‘নোইভা ডো করডেরিয়ো’ ঠিক তেমনই আরেকটি গ্রাম। যেখানে শুধু সুন্দরী নারীরাই বাস করতে পারেন। ১৮৯০ সালে এক মেয়েকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয়া হয়। এরপর শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তিনি চলে আসেন গ্রামটিতে। মারিয়া সেনহোরিনা ডে লিমা নামের সেই মেয়েটি ১৮৯১ সালে এই গ্রামের পত্তন করেন।

এর পর ধীরে ধীরে ওই গ্রামটিতে সুন্দরী নারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মূলত, যেসব সুন্দরী নারী বিয়ে করতেন চান না বা একা থাকতে চান তারা এই গ্রামে বাস করেন। চাষাবাদ থেকে শুরু করে কৃষিপ্রধান ওই গ্রামে জীবন ধারণের সব কাজই নারীরাই করে থাকেন।

ad

পাঠকের মতামত