বেঁচে থাকার করুণ আকুতি মৌ’র!
পৃথিবীতে বেঁচে থাকার প্রতিটা মূহুর্ত ভীষন আনন্দের। সবাই বেঁচে থাকতে আর সুস্থ থাকতে চায়। কিন্তু নিয়তি ক্ষনে ক্ষনে বড়ই নির্মম। মাঝে মাঝে বেঁচে থাকার ভরদুপুরের স্বপ্নগুলোকেও তছনছ করে দেয়। হটাৎ করেই ভালোবাসায় মোড়ানো দুই মলাটের জীবনটাকে থামিয়ে দেয়।
এমনি একজনের গল্প জানাবো আপনাদের। একটা সময়ে যে নিজে অন্যের সহায়তা আর বেঁচে থাকার প্রেরণা যোগাতো, আজ সে খুব অসহায়ত্ব অনুভব করছে।
জাহিদা জাহান মৌ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের মৃত শেখ আজিজুর রহমানের পাঁচ সন্তানের মধ্য সবার ছোট সে। এ বছর সাতক্ষীরা সরকারী মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেছে মৌ। বাবা বেঁচে না থাকলেও মৌ’র স্বপ্ন কিন্তু থেমে নেই। পড়াশুনা চালিয়ে গেছেন শেষ অবধি। কিছুদিন আগেও স্বাভাবিক ছিল মৌ। ভ্যান থেকে পড়ে গিয়ে তার কোমরের হিপ জয়েন্ট বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায় যাকে বলা হয়, Post traumatic AVN of right femoral head.
এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছেন বিছানায়। তার সব স্বপ্ন পঙ্গুত্বের কাছে হার মেনে যাচ্ছে। পিতৃহারা মৌ এর চার বোন এক ভাই। একমাত্র উপার্জনকারী তার ভাই, একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকুরি করেন। দেশে মৌ’র চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে হবে।হিপ জয়েন্ট নতুন করে স্থাপন করতে হবে। তাতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন।
জাহিদা জাহান মৌ শুধু-ই একজন মানুষ এটা কিন্তু নয়। সে অনেক সেচ্ছাসেবী সংঘটনের সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত আছে। সাতক্ষীরা জেলার সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোর নিবেদিত প্রাণ মৌ।
দেশের বৃহৎ সংগঠন গুলোর একটি হল “প্রথম আলো বন্ধুসভা” সেটার সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মৌ।
শুধু তাই নয় দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেটি দুর্নীতি নিয়ে কাজ করে “ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ” এর সহযোগী সংগঠন”ইয়েস গ্রুপে’র” সদস্য হয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর সংগঠনটির সাথে দুর্নীতির বিরোধী সকল কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ এবং দুর্নীতি বিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন।
সাতক্ষীরা শহরে “পাঠশালা ” নামে একটি সংগঠনেও রয়েছে। সেখানে শিক্ষাবঞ্চিত, গরীব ও শ্রমজীবী শি্ুশুদের কে সে পড়ায় ।
ছোট্র এই মানুষটি দেশকে নিয়ে অনেক সপ্ন দেখে। তার এই স্বপ্নের গতিপথে পঙ্গুত্ব বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভাবে চিকিৎসা না করতে পেরে এখন শয্যাশায়ী হয়ে বিছানার পড়ে রয়েছেন। এই সেচ্ছাসেবী মানুষটি সকল সহযোদ্ধাদের নিকট সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
মৌ প্রত্যাশা আবারও সে সুস্থ হয়ে বন্ধুসভার বন্ধুদের পাশে দাঁড়াবে। বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে,দুর্নীতি বিরোধী সহযোদ্ধাদের সাথে আবারও মানুষ কে দুর্নীতির বিরোদ্ধে সোচ্চার করবে। শ্রমজীবী শিশুদের সাথে আবারও খেলতে খেলতে বর্ণমালা শেখাবে।
কিছু মানুষের চলমান জীবনের সত্যি গল্পগুলো আমাদের চোখে জ্বল এনে দেয়। খুব করে বাঁচতে চাই এই মানুষটি। টাকার জন্য চিকিৎসা না হলে হয়তো অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে জীবনের গতি পথ। থেমে যাবে হয়তো কাঙ্খিত স্বপ্ন।
একজন সৃজনশীল স্বপ্নবাজ মানুষকে হারালে হয়ত সেটা আমাদের সবার ব্যর্থতায়-ই রয়ে যাবে।
আসুন সবাই মিলে বেঁচে থাকি। স্বপ্নবাজ এই মৌ কে বাঁচিয়ে রাখি। যান্ত্রিক পৃথিবীতে এমন একটি মানবিক মানুষ বেঁচে থাকার খুব দরকার।
তার পরিবার চিকিৎসার জন্য এত টাকা কখনোই সংগ্রহ করাতে পারবেন না। তাই মৌ এর মায়ের আকুল আবেদন যদি সমাজের বৃত্তবানরা একটু এগিয়ে আসেন তাহলে মৌ সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকবে সবার মাঝে। বাঁচিয়ে রাখবে কিছু অসহায় শিশুদেরকে বর্ণমালার আলো জ্বালিয়ে।
কেউ সহযোগীতা করতে চাইলে অনলাইন পোর্টালটির কতৃপক্ষ্যের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হল।




