ছবি ব্যবসা সফল, তবুও হাসি নেই নির্মাতা-কলাকুশলীদের মুখে!
বিনোদন.কম।।
চলচ্চিত্রে বিভিন্ন সংগঠন নিয়ে যে বিভাজনের অঙ্ক শুরু হয়েছে তা মূলত শাকিব খানকে ঘিরেই। তাই জায়েদ-মিশা প্যানেলের সাথে একটা পোশাকি সৌহার্দ্য দেখালেও আদতে তারা দুই মেরুতে বাস করছেন এবং তা প্রকটভাবে দেখা গেল চলচ্চিত্রশিল্পী সমিতির বনভোজনে। এলেন না মৌসুমী, ওমর সানী, অপু বিশ্বাস, অমিত হাসানসহ বেশ ক’জন তারকা শিল্পী। শাকিব খান দেশের বাইরে ছিলেন। তবে ঢাকায় থাকলেও তাকে দেখা যেত কি-না সন্দেহ।
এই বিভেদ আর বিভাজনের কারণে অনেক জরুরি সিদ্ধান্তই মূলত কোনো টার্গেটে পৌঁছাচ্ছে না। যেমন সিনেমা ডিস্ট্রিবিউটরদের নিয়ে সম্প্রতি আয়নাবাজির নির্মাতা অমিতাভ রেজা যে ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন, তা হলো অধিকাংশ হল মালিকের কাছ থেকে কোনো টাকা পাননি প্রযোজক। এই অবস্থায় ব্যবসাসফল ছবির গল্প শুধু মিডিয়াতেই বন্দি হয়ে থাকবে। খুব আড়ম্বরে শুরু হওয়া চলচ্চিত্র ফোরাম হঠাত্ চুপসে গেল। অনেকটা মহরত সর্বস্ব ছবির মতো। তবে বিকল্পধারায় একদল শিল্পী-কুশলীর এই সংগঠিত হতে গিয়েও ব্যর্থ হওয়ার ফলাফল কি দাঁড়াবে তা বোঝা মুশকিল। কারণ জাজ মাল্টিমিডিয়ার একাধিক কার্যক্রম নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অনেকের বিতর্ক থাকলেও কেউ তাদের মতো বড় লগ্নিতেও ফিরছেন না। ফলে চলচ্চিত্রেও সুস্থ প্রতিযোগিতার কোনো অবস্থা নেই।
চলচ্চিত্রে যৌথ প্রযোজনার ছবির মনিটরিং কিংবা চলচ্চিত্র বিনিময়ের ক্ষেত্রেও একতাবদ্ধভাবেই সমাধান করতে হবে। অথচ এসব ইস্যুতেও সবাই এক নেই। নয়তো ইন্সপেক্টর নটি কে চলচ্চিত্রটি রিলিজ নিয়ে এমন ধোঁয়াশা তৈরি হতো না। পারস্পরিক বৈরিতার কারণেই বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। যেমন একদিকে ব্যবসাসফল তকমার ছবির লগ্নি না ওঠার হতাশ খবর যখন পরিচালকরাই বলছেন, ঠিক তখন শাকিব খানের ছবি শীর্ষ ব্যবসা সফলতার তালিকায় না এলেও নোলক নামের এক নবাগতা নির্মাতার ছবিতে তার রেকর্ড পারিশ্রমিক নিলেন। তথ্য মতে, শাকিব খান এই ছবিতে ৫০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিককালের আয়নাবাজি রেকর্ড সাফল্য পেলেও ছবির পাত্র-পাত্রীকে নিয়ে ছবি পরিচালকদের লাইন লেগে যাওয়ার কথা। কিন্তু আয়নাবাজির চঞ্চল চৌধুরী-নাবিলা কিংবা ঢাকা অ্যাটাকের আরেফিন শুভ-মাহীর নতুন ছবির খবর কোথায়! বরং ঢাকা অ্যাটাকের দীপংকর দীপন তার পরবর্তী ছবির ঘোষণায় প্রসেনজিতের নাম ঘোষণা করে খানিক সমালোচনা পোহাচ্ছেন।
অপরদিকে জায়েদ খান তার নিজের প্রযোজনার ছবি ‘অন্তর জ্বালা’র সাকসেস পার্টি করলেন। কিন্তু কত লগ্নি, কত লাভ হলো তার কোনো তথ্য সূত্র নেই! এমনকি ছবি সফল হলে তো চিত্রনায়কের আরোকিছু ছবি সাইনিংয়ের খবর আসার কথা। সেগুলোও নেই। তবে এ কেমন সাফল্য! অথচ আগের আমলে কোনো ছবির সাফল্য এলে সেই পরিচালক, চিত্রনায়ক ও চিত্রনায়িকার বাজার দর বেড়ে যেত এমনিতেই তা নিয়ে।
সম্প্রতি একটি ফেসবুক লাইভেও সফল নায়িকা নাবিলা নিজেই হতাশা নিয়ে বলেন, ‘নতুন ছবির ক্ষেত্রে নাকি ব্যাটে-বলে মিলছে না। তবে এই শীর্ষ সাফল্যের মানে কী? যেখানে নির্মাতা হতাশা প্রকাশ করেন, চিত্রনায়িকার মনের মতো।’ তবে কী ওই লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাওয়ার মতো অবস্থা! ডিজিটাল টিকেটিং এখন সময়ের দাবি। কারণ ছবি লস হোক কিংবা সুপারহিট। ডিস্ট্রিবিউটর মধ্যস্বত্বভোগীরা হাসছেন ঠিকই। প্রযোজক জোর করেও হাসতে পারছেন না।
এই অবস্থায় কলকাতার চলচ্চিত্র প্রযোজকরা ঢাকায় অফিসিয়ালি যাত্রা শুরু করলে দেশীয় প্রযোজকদের কি অবস্থা হবে তা বোঝা মুশকিল!
শাকিব খান বলেন, ‘বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে দুই বাংলার ঐকবদ্ধ থেকেই কাজ করতে হবে। আমরা শুধু হা-হুতাশ করছি আমাদের দেশ থেকে সব নিয়ে গেল। আমরা ওদের কাছ থেকে কতটা লাভবান হতে পারি সেদিকে লক্ষ্য রাখলেই তো হয়। আমরা পরস্পরকে শত্রু না ভেবে একসাথে উভয়েই কতটা লাভবান হতে পারি সেদিকে নজর দিই।’




