187009

ভারতে ১৬-১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি কিশোরীদের দিয়ে যৌন ব্যবসা

বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হওয়া ১৬-১৭ বছর বয়সী কিশোরীদের পতিতালয়ে পাঠানোর পরিবর্তে ভিন্ন কৌশলে যৌন ব্যবসায় জড়িত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশের মানব পাচারকারী সিন্ডিকেট তাদেরকে কলকাতার বিভিন্ন বডি ম্যাসাজ পার্লারে কাজ করাচ্ছে।

‘ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজিএম) এবং দি ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর প্রটেকশন অব চাইল্ড রাইটস্ ফর ২০১৫-১৬ অব কমার্শিয়াল সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়শন অব চিলড্রেন ইন কলকাতা’র গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে তা হলো— যৌন পেশায় শিশুদের ব্যবহারের কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের যৌন পেশার জন্য অন্যতম একটি স্থান কলকাতা। এখানে পাচারকৃতদের নিয়ে যৌনবাণিজ্য চালানো হচ্ছে এমন অন্তত ২৯টি ‘রেড লাইট’ স্পট আছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতার সবচেয়ে বড় পতিতালয় সোনাগাছিতে পতিতাবৃত্তির ধরনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাচারকারী সিন্ডিকেট এখন ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে বৃহৎ আঙ্গিকে খদ্দেরদের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিগত আপার্টমেন্ট বা গোপন স্থানে যৌনব্যবসা পরিচালনা করছে।

আইজিএম এই গবেষণার জন্য মোট ২৮ জন পাচারের শিকার (১৮/২৭ বয়স) ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার নেয়। যারা ১২ থেকে ২৩ বছর বয়সে যৌন পেশায় যুক্ত হয়। আর এই ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১০ জনই বাংলাদেশের। তারা দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন বাড়িতে যৌন পেশায় যুক্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভালো চাকরি ও বেতনের লোভ দেখিয়ে এ কিশোরীদের ভারতে পাচার করে যৌন পেশায় জড়ানো হয়েছে। গবেষণা থেকে আরও জানা গেছে, ১৭ বছরের কিশোরীদের কাছ থেকে তার ম্যানেজাররা সেবা প্রদানের জন্য গড়ে ১৫০০ রুপি করে আদায় করেন। কিন্তু এই টাকার কত পরিমাণ কিশোরীরা পায়— তা নিশ্চিত নয়।

এ প্রসঙ্গে দি ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশনের চেয়ারম্যান অনান্য চক্রবর্তী জানান, যৌন পেশায় শিশুদের ব্যবহারে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ এর ফলে পাচারের শিকার শিশু-কিশোরীদের শনাক্তকরণ এখন আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখা গেছে, সাধারণ পতিতালয়ে শিশু-কিশোরীদের যৌন পেশায় যুক্ত হওয়ার হার তুলনামূলক কম। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে যৌন পেশায় বেশি যুক্ত আবাসিক বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের শিশু-কিশোরীরা, যাদেরকে পাচার করে আনা হয়েছে। তাদের অধিকাংশেরই বয়স ১৬ থেকে ১৭। জোরপূর্বক তাদের যৌন পেশায় যুক্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গোপনে আবাসিক বাসা ও অ্যাপার্টমেন্টে এই কিশোরীদের রেখে জোরপূর্বক যৌন পেশায় যুক্ত করা হচ্ছে। মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান থেকে পাচারকৃত কিশোরীদের লুকিয়ে রাখতেই নতুন এ কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। যৌন ব্যবসায় তুলনামূলক কম বয়সী মেয়েদেরই বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র:বিডিমর্নিং

ad

পাঠকের মতামত